নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নির্মাণের এক যুগ পার হলেও সংস্কার করা হচ্ছে না কাঞ্চন এশিয়ান হাইওয়ে সংযোগকারী কলাতলী-মাইটাহাঁড়ি সড়ক। প্রায় এক কিলোমিটার এ সড়কটি ঘিরে কাঞ্চন পৌরসভার কলাতলী ও মাইটাহাড়ি দুই গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির প্রায় শতভাগ বেহাল হওয়ায় ভেগান্তির শেষ নেই স্থানীয়দের। নির্মাণের এক যুগ পরও এর সংস্কার না হওয়ায় নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক যুগ আগে কাঞ্চন পৌরসভা থেকে ইট দিয়ে ৬ ফুটের ওই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই রাস্তাটি ভাঙতে শুরু করে। নির্বাচনের আগে সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু ভোটের পর তারা আর খবর নেয় না।
সরেজমিন দেখা গেছে, কলাতলী থেকে মাইটাহাঁড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের প্রায় শতভাগেরই বেহালদশা। ইট উঠে গিয়ে বর্তমানে মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে সড়কটি। নির্মাণের সময় পুকুরের পাশ দিয়ে যথাযথভাবে কোনো বাঁধ না দেওয়ায় সড়কের মাটি পুকুরে ধসে পড়ছে। এতে ৬ ফুটের সড়ক ৩ ফুটে পরিণত হয়েছে। এতে বেড়েছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। বড় ধরনের যানবাহন তো দূরের কথা, সড়কটি দিয়ে মোটরসাইকেল, সাইকেল ও রিকশা যাওয়ার সুযোগও নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রায় এক যুগ ধরেই আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে এসে শুধু আশ্বাসই দেন, কিন্তু বাস্তবে তা রূপ নেয় না। এবড়োখেবড়ো সড়কটি দিয়ে চলাচল করাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এমনকি চলাচলের সময় বেশ কয়েকবার হোঁচট খেয়ে পড়ে ব্যথা পেয়েছি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে একটাই আবেদন, খুব দ্রুত সময়ে সড়কটি সংস্কার করে আমাদের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।’
কাঞ্চন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কলাতলী থেকে মাইটাহাঁড়ি এলাকার সড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের সংযোগ সড়ক। এ সড়কটি সংস্কারের জন্য দেড় কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে দিকে রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।’
কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিগগিরই সড়কটি সংস্কার করা হবে।’
