একটি সালিস বৈঠকের ছবিকে বিদেশ ফেরত কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিকে দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় বলে প্রচার করায় ছবিটি নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ছবিতে একটি বাড়ির সামনে এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী কীভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন তা দেখতে জনতা ভিড় করছে মন্তব্য লিখে একজন ফেসবুকে পোস্ট করেন। ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইনে তা প্রকাশ হলে এ নিয়ে ফেসবুকে ঝড় উঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভার গয়াহরি এলাকার ধীরেন্দ্র দেবের ছেলে ধনঞ্জয় দেব বছর খানেক আগে নবীগঞ্জ উপজেলার বদরদী গ্রামের হবিগঞ্জ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতিন্দ্র দেবের কন্যা অনুশ্রী দেবকে বিয়ে করেন। পরে তারা অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দেন। গত ১৭ মার্চ তারা দেশে ফেরেন। হজরত শাহজালাল বিমান বন্দরে ধনঞ্জয় তার স্ত্রী সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না জানিয়ে বিমানবন্দরেই অনুশ্রীকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুশ্রী তার বাবা মা কে নিয়ে ধনঞ্জয়ের গয়াহরি বাসায় হাজির হন। এ সময় ধনঞ্জয় বাসায় ছিলেন না। অনুশ্রী তার শ্বশুর বাড়িতে থাকার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন। কিন্তু শ্বশুর বাড়ির লোকজন তা মানতে নারাজ। এ নিয়ে বাসায় হট্টগোল দেখা দেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, পৌর মেয়র ছাবির হোসেন চৌধুরী, নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমান, বাউসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছুটে যান।
সালিসে অনুশ্রী দাবি করেন স্বামী তার পাসপোর্ট নিয়ে গেছেন। সালিসে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ১৪ দিন অনুশ্রীকে তার পিত্রালয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য অনুরোধ করেন। তারপর সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলে আশ্বাস দিলে অনুশ্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা চলে যান।
এ ব্যাপারে ধনঞ্জয় দেবের ভাই দীপক দেব জানান, ধনঞ্জয় দেব ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় রয়েছেন। বিষয়টি সমাধানের আশ্বাসে অনুশ্রী দেব তার পিত্রালয়ে ফিরে গেছেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন, সালিস দেখতে মানুষ সেখানে ভিড় করলে সেই ছবি তুলে কে বা কারা ফেসবুকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রকাশ করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। প্রবাসীরা বর্তমানে বাড়িতে নেই। তাদের ঝগড়া নিয়ে সালিস বৈঠক হয়।
নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, এখানে তাদের পারিবারিক বিষয় নিয়ে সালিস ছিল। আমি উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলাম। সালিস দেখতে লোকজন ভিড় করেন। কোয়ারেন্টিনে থাকা প্রবাসীকে দেখতে মানুষের ভিড় এটা সম্পূর্ণ গুজব ও মিথ্যা কথা।
নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম সালিস বিচারের সত্যতা স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে ডা. রতিন্দ্রের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
