উপনির্বাচনের এক দিন আগে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি অভিযোগ করে বলেছেন, উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারে বাধা না দিলেও সহযোগিতা করছে না। ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের পাঠানো নিয়েও শঙ্কায় আছেন বিএনপির এই প্রার্থী। তার আরও অভিযোগ, তার নির্বাচনী এলাকার প্রায় সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সকাল সোয়া ৯টায় ধানম-ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে দিনভর সব কেন্দ্র পরিদর্শন করব।
আজ শনিবার ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের এক দিন আগে গতকাল সারা দিন নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সময় কাটিয়েছেন শেখ রবি। নির্বাচনের দিন কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে নেতাকর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তিনি। দুপুরে নির্বাচনী কার্যালয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্তে আলাপকালে শেখ রবি বলেন, উপনির্বাচনের বাকি আছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এখন পর্যন্ত সরকার ও ইসি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনিতেই বর্তমান সরকার ও ইসি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভোটাররা ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে চান না। গেলেও দেখেন অন্যরা ভোট দিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, একদিকে ভোটাররা ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, অন্যদিকে দেশজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে জনগণ। এমনিতেই ঢাকার রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেছে। লোকজন খুব একটা বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। এরই মধ্যে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আদৌ যাবেন কি না তা নিয়ে চিন্তিত আমরা।
কোথায় ভোট দেবেন জানতে চাইলে বিএনপির এই প্রার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনি সকাল সোয়া ৯টায় ধানম-ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (হাতিরপুল ইস্টার্ন প্লাজার পেছনে) ভোট দেবেন।
ইতিমধ্যে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শেখ রবি বলেন, নির্বাচনী এলাকার সব কেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এজেন্টদের কেন্দ্রে পাঠানো যাবে কি না তা নিয়ে চিন্তিত রয়েছি। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র কাঁঠালবাগানের খান হাসান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এজেন্ট পাঠানো যায়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এবার উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রে যাদেরকে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস করছেন না। তাদেরকে বুঝিয়ে, সাহস দিয়ে ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। এছাড়া মেহেরুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয় ও ইস্টার্ন প্লাজার পেছনে ধানমন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ।
নির্বাচনী কার্যালয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন হাজারীবাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল আজিজ। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, হাজারীবাগ থানা এলাকার সব ওয়ার্ডের সব কেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হবে। কিন্তু শঙ্কায় আছি কতক্ষণ তাদেরকে ভোটকেন্দ্রে রাখা যাবে।
