প্রশাসনের নাকের ডগায় পঞ্চগড় শহরের তালমা নদীর প্রায় সাড়ে ৮ একর জমি দখল করে হিমালয় বিনোদন পার্ক করেছেন শাহীন নামে এক ব্যবসায়ী। তার পাশেই প্রায় সাড়ে ৭ একর জমি দখল করে স্থাপনা তুলেছে সৌদি বাংলা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ইকো ফ্রেন্ড লিমিটেড। বোদা উপজেলায় করতোয়া ও পাম নদীর তিন একরেরও বেশি জমি দখল করে ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন গাছের বাগান করেছেন নাবিলা অরচার্ড অ্যান্ড লিমিটেডের দাউদ খালিদ সারোয়ার।
অভিযোগ উঠেছে, অভিযানের নামে দরিদ্র কিছু পরিবারকে উচ্ছেদ করা হলেও প্রভাবশালীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের যোগসাজশে নদী দখল করে তুলেছেন স্থায়ী স্থাপনা, গড়েছেন বাগান, নির্মাণ করেছেন পার্ক।
জানা গেছে, পঞ্চগড়ের করতোয়া, ডাহুক, পাম, ছেতনাই, তালমা, গবরা নদীর প্রায় ৪০ একর জমি দখল করে রেখেছে ১৩৩ জন দখলদার। নদী রক্ষা কমিশনের তালিকায় সেটি প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন পঞ্চগড়ের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন পঞ্চগড়ের নদী দখলদারদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ণ নয় বলে আমরা মনে করি। পঞ্চগড়ের প্রত্যেকটি নদীতেই দখলদার রয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন যে অভিযান পরিচালনা করছে সেটিকে নামমাত্র বলাই ভালো। প্রভাবশালী দখলদারদের উচ্ছেদে কোনো উদ্যোগ নিতে আমরা দেখিনি।’
হিমালয় বিনোদন পার্কের স্বত্বাধিকারী শাহীন বলেন, ‘নদীর জমি দখল করলাম কোথায়। এটা আমার কেনা জমি। কেউ তো আমাকে ফ্রি দেয়নি। এমনকি নদী এখন যেখান দিয়ে বয়ে যাচ্ছে সেটিও আমার কেনা জমি। আমি কোনো নদী দখল করিনি। কে কোন তালিকা প্রকাশ করেছে তা আমি দেখিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডও আমাকে কোনো নোটিস করেনি।’ নাবিলা অরচার্ড অ্যান্ড লিমিটেডের মালিক দাউদ খালিদ সারোয়ার বলেন, ‘আমি আমাদের খতিয়ানভুক্ত জমিতে বাগান করেছি। তার পাশেই নদী রয়েছে। কেউ হয়তো নদী রক্ষা কমিশনে ভুল তথ্য দিয়েছে। এছাড়া নদী রক্ষা কমিশনের প্রকাশিত তালিকাও আমি এখনো দেখিনি। কেউ আমাকে নোটিসও করেনি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, শীতের কারণে আমরা উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রেখেছিলাম। ক্রমান্বয়ে প্রত্যেক নদীর দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। সে যতই প্রভাবশালী হোক। প্রভাবশালীদের নোটিস করা হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নোটিস করছি। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
