হতদরিদ্রের ঘর বিত্তবানকে দেওয়ায় বরাদ্দ বাতিল

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ১২:৩৩ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্রদের ঘর বিত্তবানের নামে বরাদ্দ হওয়ার পর তা বাতিল করা হয়েছে। রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় প্রথমে মাসুম সরকার নামে এক বিত্তবানকে এ বরাদ্দ দেয়। পরে বাড়িটির অর্ধেক নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিত্তবানের নামে বাড়িটির বরাদ্দ বাতিল করার নির্দেশ দেন। উপজেলার তারাবো পৌরসভার সুলতানবাগ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রূপগঞ্জে দুই শতাধিক হতদরিদ্রের নামে সরকারি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার মধ্যে একটি বাড়ি পান তারাবো পৌরসভার সুলতানবাগ এলাকার বাসিন্দা সুবহান সরকারের ছেলে বিত্তবান মাসুম সরকার।

সরেজমিন জানা যায়, মাসুম সরকারের মালিকানাধীন তারাব পৌরসভার সুলতানবাগ ও তারাব বাজার এলাকায় পাঁচটি বাড়ি রয়েছে। যার দুটি দ্বিতল ভবন ছাড়াও তিনটি পাকা বাড়ি। মাসুম সরকার একটি বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকেন। বাকি বাড়িগুলো ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। যেগুলো থেকে তিনি প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ভাড়া পান। পাঁচটি বাড়ির পাশাপাশি তিনি অঢেল সম্পত্তির মালিক।

কিন্তু ‘হতদরিদ্রদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের’ আওতায় কোটিপতি মাসুম সরকারের নামে বরাদ্দ হয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি আধাপাকা সরকারি বাড়ি। আর এ বাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হতদরিদ্রদের বাড়ি কোটিপতির নামে বরাদ্দ হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখের। 

তারাবো পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমির হোসেন বলেন, এ সরকারি বাড়িটি তারাব যুব মহিলা লীগের দরিদ্র কর্মী রুমা বেগমের নামে বরাদ্দ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রুমা বেগমের পর্যাপ্ত জমি না থাকার কারণে বাড়িটি মাসুম সরকারের নামে বরাদ্দ করা হয়। রুমার জন্যই বাড়িটি নেওয়া হয়েছে।

মাসুম সরকার বলেন, সরকারি বাড়িটি আমার নামে বরাদ্দ হলেও প্রকৃতপক্ষে আমার জন্য নিইনি। স্থানীয়দের পরামর্শে তা করেছি। রুমা নামে যুব মহিলা লীগের এক কর্মীকে পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করতে দেওয়ার কথা ছিল।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, বাড়িটি বরাদ্দের সময় তদন্ত করতে গেলে স্থানীয়রা হয়তো ভুল তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের সময় মাসুম সরকারের জরাজীর্ণ ঘর দেখানো হয়েছিল।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে বরাদ্দকৃত বাড়িটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত