ভৈরবে মারা যাওয়া ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ১০:২১ পিএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মারা যাওয়া ইতালি ফেরত আব্দুল খালেক (৬০) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

সোমবার রাতে একটি বেসরকারী টেলিভিশনের টকশোতে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর। এ খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে এখান আতংকগ্রস্ত লোকজনের মাঝে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা: বুলবুল আহমেদ এ বিষয়ে আইইডিসিআর এর চিঠির বরাতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, রবিবার রাতে ভৈরব শহরের জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আলমাছ মিয়ার ছেলে ইতালি ফেরত আব্দুল খালেক একটি বেসরকারী হাসপাতালে মারা যান। তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইতালি থেকে দেশে আসেন।  

 

তিনি দেশে ফিরে হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম রক্ষাসহ করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সাথে কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেননি। মৃত্যুর ২/৩দিন আগে থেকে তিনি সর্দিজ্বর, শ্বাসকষ্টে ভোগে ওইদিন রাতে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তার স্বজনদের আইসোলেশন সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু স্বজনরা তাকে সেখানে না নিয়ে শহরের অপর একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি লুবনা ফারজানা ও প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. বুলবুল আহমদের নেতৃতে একটি মেডিকেলটিম মরহুমের বাড়ি যান। পরে আব্দুল খালেকের যাওয়া দুটি হাসপাতাল ভিজিট করে লকডাউন করেন।

খবর পেয়ে সোমবার সকালে ঢাকা থেকে আইইডিসিআর এর একটি প্রতিনিধিদল এসে মরহুম আব্দুল খালেক ও তার স্ত্রী-সন্তানদের প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় ফিরে যান। পরে মরহুমের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে এবং আশে পাশের ১০ বাড়িতে চলাচল সীমিত রাখার নির্দেশনা জারি করে প্রতিরোধ কমিটি। পুলিশ প্রহরা বসানো হয় মরহুমের বাড়ির পাশে। দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসার উপস্থিতিতে আইইডিসিআর এর বিধান অনুসারে জানাযা শেষে শহরের পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত