রাশিয়ার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই নানা জল্পনা কল্পনা। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এত কম কেন, কীভাবে তারা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, এ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ‘সন্দেহ’ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে করোনা সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করছে না রুশ কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যে মস্কোর মেয়রের আশঙ্কা, রুশ রাজধানী শহরটিতে আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক অনেক বেশি হতে পারে।
রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ আশঙ্কার কথা জানান মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। এদিন মস্কোর কাছে একটি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান পুতিন, যার পরনে দেখা যায় সুরক্ষা স্যুট ও বায়ুশোধক মাস্ক।
পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সোবিয়ানিন জানান, মস্কোতে ভয়াবহ পরিস্থিতি উন্মোচিত হচ্ছে। সত্যিকারের আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ সংখ্যা বাড়ছে।
রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ৬৫৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। ১৪৬ মিলিয়ন মানুষের দেশে চলমান পরিস্থিতিতে চীনের পার্শ্ববর্তী একটি অঞ্চলে এই সংখ্যা নেহাত কম।
এ ছাড়া ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো যেখানে করোনার আঘাতে বিপর্যস্ত সে তুলনায় রাশিয়ায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।
দেশটির কিছু চিকিৎসক শুরু থেকেই করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সরকারি হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিলেন। যদিও পুতিনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রাশিয়ান প্রতিনিধি মেলিতা ভজনোভিচ বলেছিলেন, ‘আমরা জানুয়ারির শেষ দিকেই পরীক্ষা শুরু করেছি।’
কিন্তু মস্কো মেয়রের দাবি, ভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষা কম হয়েছে; বিদেশ ফেরত মস্কোর অনেক বাসিন্দা ঘরে অথবা গ্রামাঞ্চলের হলিডে কটেজগুলোতে স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে আছেন।
এদিকে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় মঙ্গলবার রুশ সরকার দেশটির সব নাইটক্লাব, সিনেমা হল ও শিশু বিনোদন কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
এ ছাড়া কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা অমান্য করলে কারাদণ্ডসহ নানা শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব উঠেছে রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে। এতে গণসংক্রমণে ভূমিকা রাখলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং কারও সংক্রমণের কারণে দুই বা ততোধিক মানুষের মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।
