পাকিস্তানের করাচি শহরের একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সরু গলিতে লোহার রড দিয়ে নর্দমার ঢাকনা খোলার চেষ্টা করছেন ইকবাল মসিহ। এই একটি মাত্র কাজই তিনি পারেন। জীবনের ৩০ বছর ধরে স্যানিটারি কর্মী হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজ করছেন। করোনাভাইরাসের এ সময়ে স্যানিটারি কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। কারণ হাসপাতাল থেকে বাসাবাড়ির সব ময়লা-আবর্জনার ব্যবস্থাপনা তাদেরই করতে হয়।
আলজাজিরাকে ৫১ বছর বয়সী ইকবাল বলেন, ‘এটা যে ঝুঁকিপূর্ণ তা আমি জানি। অস্বাস্থ্যকর কাজ এবং মানুষ আমাদের নিচু করে দেখে। কিন্তু কাউকে না কাউকে এ কাজ করতেই হবে। আমি এ কাজ না করলে অন্য কিছু করার নেই আমার, যা আমার জন্য আরও খারাপ।’ স্যানিটারি শ্রমিকরা সাধারণত টয়লেট পরিষ্কার, সেপটিক ট্যাংক, ম্যানহোল পরিষ্কার, গাছের পরিচর্যা থেকে পরিচ্ছন্ন করার যাবতীয় কাজ করে। বিশে^র অধিকাংশ জায়গাতেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে থাকে নিরাপত্তামূলক গ্লাভস বা অন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছেন।
বিশে^ করোনাভাইরাসে ইতিমধ্যেই ১৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর চার লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ ঠেকাতে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি মাস্ক ও অন্যান্য নিরাপত্তামূলক পোশাক পরিধানের পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
বিশে^ কতজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড নেই। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কাছেও কোনো তথ্য নেই। এ সংস্থাগুলোর যৌথ এক রিপোর্টে বলা হয়, ‘স্যানিটেশনকর্মীরা সমাজের মধ্যে সবচেয়ে অদৃশ্য ও অবহেলিত। তারা অধিকাংশই সর্বোচ্চ আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করেন। সংবাদপত্রের পাতায় প্রায়ই দুর্ঘটনায় স্যানিটারি শ্রমিকের মৃত্যুর সংবাদ দেখা যায়। পাকিস্তানের স্যানিটারি শ্রমিকদের প্রায়ই অর্থও দেওয়া হয় না তাদের কাজের জন্য। মাসে হয়তো এক হাজার রুপির বেশি উপার্জন হয় না ইকবালদের। অথচ এ শ্রমিকদেরই মানুষের ফেলে দেওয়া বর্জ্য, সুই, ব্লেড, ভাঙা কাচসহ অন্য ধারালো উপাদান ধরতে হয় ড্রেন পরিষ্কারের সময়। এ সময় অনেকে শারীরিকভাবে ক্ষতির শিকারও হয়। পাকিস্তানে স্যানিটারি শ্রমিকের কাজ দেওয়া হয় শুধু অমুসলিমদের। ভারতের অনেক জায়গায় স্যানিটারি শ্রমিকদের কাজের বিনিময়ে অর্থ না দিয়ে খাবার দেওয়া হয়। আফ্রিকার দেশগুলোতেও এ শ্রমিকদের অনেক কম অর্থ দেওয়া হয়।
