রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নে হামে আক্রান্ত একই পরিবারের পাঁচ শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে গত বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তারা হলো– প্রহিত ত্রিপুরা (৭), রখেন ত্রিপুরা (৮), রকেট ত্রিপুরা (৯), নহেন্দ্র ত্রিপুরা (১০) ও দিপায়ন ত্রিপুরা (১১)। তারা সবাই শিয়ালদহ মৌজার লংথিয়ান পাড়ার অনীল মোহন ত্রিপুরার সন্তান।
বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আহমদ জানিয়েছেন, সাজেকে হামে আক্রান্ত একই পরিবারের পাঁচ শিশুর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বুধবার বিকেলে তাদের সেনাবাহিনী ও বিজিবির হেলিকপ্টারে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে তাদের পাঁচজনকে দীঘিনালা নিয়ে আসা হয়। পরে দীঘিনালা থেকে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখনো ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১২৩ শিশু হামে আক্রান্ত রয়েছে। তাদের চিকিৎসায় তিনটি মেডিকেল টিম সেখানে কাজ করছে। এছাড়া সেনাবাহিনী ও বিজিবির মেডিকেল কাজ করছে।
গত ২৫ ফেব্রম্নয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত সাজেকের অরুণপাড়ায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া ইউনিয়নের লংথিয়ানপাড়ায় গত রবি ও মঙ্গলবার আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের মহামারীর সময়ে হাম সাত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আশপাশের গ্রামে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
১৬৯নং শিয়ালদহ মৌজার হেডম্যান যুপিইথাং ত্রিপুরা বলেন, ‘যতটুকু জানতে পেরেছি বুধবার বিকেলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় হেলিকপ্টারে চমেক হাসপাতালে নেওয়া পাঁচ ভাই এখন সুস্থ আছে। সাজেকের পাঁচ গ্রামে হামে আক্রান্ত শতাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সেনাবাহিনী ও বিজিবির তত্ত্বাবধানে আরও একটি চিকিৎসক দল লংথিয়ানপাড়ায় পাঠানো হয়। ওই দলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ সামগ্রীও আনা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।’
