মাদারীপুর করোনাভাইরাসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে জেলায় জীবাণুনাশকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হেক্সিসল, স্যাভলন, স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশসহ বিভিন্ন ধরনের জীবাণুনাশক এবং হ্যান্ডগ্লাভস দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। জীবাণুনাশক না পাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার শিশুসহ কয়েক লাখ মানুষ। তবে জেলা ঔষধ প্রশাসনের দাবি, খুব দ্রুত এ সংকট কেটে যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার কালকিনি, শিবচর, রাজৈর ও সদর উপজেলার কোনো ওষুুধের দোকানে এসব জীবাণুনাশক পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত এসব জীবাণুনাশক সংগ্রহ করতে না পারলে মানুষ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর। দোলা বিশ্বাস নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করার জন্য স্যাভলন কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো দোকানে পেলাম না। তাই ফিরে এসেছি। সব সময় করোনা আতঙ্কে আছি।’
শহরের চায়না শেখ নামে এক গৃহিণী বলেন, ‘ছেলেকে গোসল করাতে ও বাসা জীবাণুমুক্ত রাখতে জীবাণুনাশক কিনতে পারছি না। মাদারীপুরের কোনো দোকানে জীবাণুনাশক নেই।’
রিপন মিয়া নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘শহরের কোনো ওষুধের দোকানে জীবাণুনাশক হেক্সিসল, স্যাভলন, স্যানিটাইজার পেলাম না।’
শহরের কলেজ রোডের সিনহা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী মো. আলী আজম সরদার বলেন, ‘বাজারে জীবাণুনাশকের সরবরাহ না থাকায় বিক্রি করতে পারছি না, কাস্টমার এসে ফিরে যাচ্ছে।’
মাদারীপুর কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাকিব হাসান বলেন, আমরা মূলত ঢাকার মিটফোর্ড থেকে মেডিসিন, হ্যান্ডগ্লাভসসহ অন্যান্য উপকরণ এনে থাকি। কিন্তু ওখানে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের কিছুসংখ্যক মানুষ এসব মেডিসিন ও হ্যান্ডগ্লাভসের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।’
সমিতির সভাপতি তাপস কুমার দাস বলেন, ‘মাদারীপুরে এসব পণ্যের যে পরিমাণ চাহিদা তার ৫ ভাগও পাচ্ছি না। কোনো কোম্পানির সরবরাহ নেই। এখন সাপ্লাই পেলেই আমরা জনগণকে সরবরাহ করতে পারব।’
মাদারীপুর ঔষধ প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক বীথি রানী সরকার বলেন, ‘হঠাৎ করে এসব জীবাণুনাশক মেডিসিনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাপ্লাই দিতে সমস্যা হচ্ছে। মাদারীপুরে দুটি কোম্পানির ডিপো আছে। আমরা তাদের সঙ্গে বসে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।’
