করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে একই পরিবারের তিন জনসহ পাঁচ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে আড়াই বছরের এক শিশু রয়েছে।
শনিবার তাদের ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, শরীরে জ্বর নিয়ে গত শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে করে শনিবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন তারা। বাসায় আসার পর তাদের শরীরে জ্বরের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী নিশ্চিত করেছেন।
চেয়ারম্যান জানান, আড়াই বছরের এক শিশুসহ স্বামী-স্ত্রী উভয়ই জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টসহ পাতলা পায়খানা রোগে ভুগছেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ওই পরিবারের কর্তা ঢাকায় রেস্টেুরেন্ট ব্যবসা করেন। গত ১৩ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ মাদারীপুরে পিকনিকে গিয়েছিলেন।
সেখানে একজন জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন। এরপর থেকে জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। পরে তার স্ত্রী ও সন্তানও জ্বর ও প্রচণ্ড বুকব্যথাসহ শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।
ওই অবস্থায়শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন।
শনিবার বিকেল থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিভিল সার্জনসহ ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করেন।
পরে সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল ওই তিন জনকেসহ আগে থেকে আইসোলেশনে থাকা আর্ও দুই জনকে রংপুরে রেফার্ড করেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ওই রোগীদের ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায়।
তিনি জানান, রবিবার তাদের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইইডিসিআর এ পাঠানো হবে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর বোঝা যাবে তারা করোনা আক্রান্ত কিনা।
