করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে মাদারীপুরে এসেছেন ৩ হাজার ৪২৬ প্রবাসী। কিন্তু এদের মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা গেছে মাত্র ১ হাজার ৩৫৯ জনের। বাকিরা লাপাত্তা। পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজেও তাদের পাসপোর্টে দেওয়া ঠিকানায় পাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জেলা পুলিশ ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ফেব্রম্নয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইতালি, বুলগেরিয়া, জাপান, গ্রিস, রোমানিয়া, স্পেন, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ওই সংখ্যক প্রবাসী মাদারীপুরে আসেন। গত শনিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫৯ জনকে খুঁজে বের করে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ৮৮৮ জনের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৭১ জন। বাকিরা যে নাম-ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, সেখানে গিয়ে পাওয়া যায়নি।
সারা দেশে করোনা শনাক্তদের মধ্যে ১০ জন মাদারীপুরের। এদের মধ্যে ৯ জনই শিবচর উপজেলার বাসিন্দা। এ উপজেলায় ২৫ মার্চ পর্যন্ত আট শতাধিক প্রবাসী এসেছেন। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে উপজেলার কিছু এলাকায় চলাচল সীমাবদ্ধ করেছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘প্রবাসীদের খুঁজে বের করতে আমরা রাত-দিন কাজ করছি। অনেকেই ভুল তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট করায় পাওয়া যাচ্ছে না।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজৈর উপজেলায় ২০৬ প্রবাসীর নাম পেয়েছি। এদের মধ্যে ২০৩ জনকে পাসপোর্টের ঠিকানায় পাওয়া যায়নি। এ তালিকা আমরা পাসপোর্ট অফিসে পাঠাব। সেখান থেকে হয়তো তাদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।’
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিন হাজারের বেশি প্রবাসী জেলায় এলেও অর্ধেকের বেশি নিখোঁজ। তাদের সন্ধানে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা চলছে।’
