করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে ৪ মার্চ পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সারা দেশে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করছে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন। নাগরিকদের ঘরে থাকতে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই নির্দেশনা চা-শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কাজে আসছে না। প্রতিদিন শত শত শ্রমিক দল বেঁধে কাজ করছেন একেকটি বাগানে। ফলে করোনাঝুঁকিতে আছেন চা-শ্রমিক পরিবারের প্রায় ৬ লাখ মানুষ।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের ৯২টিসহ দেশে ১৬৬টি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগানে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলে প্রায় দেড় লাখ চা-শ্রমিক কাজ করেন। তাদের পরিবারের লোকসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ।
জানা গেছে, বাংলাদেশ চা বোর্ড ২৫ মার্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বাগানগুলোতে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চিঠি দেয়। চিঠিতে চা বোর্ডের আটটি নির্দেশনায় বাগানের কার্যক্রম বন্ধ রাখা ও শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। এ চিঠি পাওয়ার পর কিছু বাগান মালিক সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বেশ কিছু কর্মসূচি চালু করলেও তা অনেকটাই কাগজে-কলমে।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারঘোষিত ছুটি আরও বাড়তে পারে। কিন্তু এই ছুটি কার্যকর হয়নি দেশের চা-বাগানগুলোতে।
গতকাল সোমবার দুপুরে ছুটির দাবিতে বিক্ষোভ করেন শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা-বাগানের শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাম ভোজন জানান, চা-শ্রমিকরা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করেন। তাদের পরিবারের প্রায় ৬ লাখ লোক করোনার ঝুঁকিতে আছে। কারণ আমরা কাজ করি একসঙ্গে। বিকেলে সবাই কাছাকাছি লাইনে দাঁড়িয়ে পাতা জমা দিই। এতে একজনের থেকে সবার সংক্রমণ হলেও হতে পারে। বেতন-ভাতা পরিশোধের বাধ্যবাধকতার অজুহাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বাগান মালিকরা। তাই আমাদের মজুরিসহ ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি জানান, বেশ কয়কটি বাগানের শ্রমিকরা ইতিমধ্যে কাজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে মৌলভীবাজারের কয়েকটি চা-বাগান ঘুরে দেখা যায়, দল বেঁধে কাজ করছেন শ্রমিকরা। কেউ কেউ কাজের ফাঁকে জড়ো হয়ে বসে খাবার খাচ্ছেন। সারা দিন কাজ শেষে বিকেলে গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে পাতা জমা দিচ্ছেন।
চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ২৫ মার্চ সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এই ছুটি চা-বাগানে কার্যকর করার দাবিতে শ্রম অধিদপ্তরে দফায় দফায় চিঠি দিয়েও সদুত্তর পায়নি তারা।
চা-শ্রমিক ইউনিয়নের চিঠির বিষয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাহিদ হোসেন জানান, তাদের পক্ষ থেকে আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চা-বাগানের শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক ছুটির ঘোষণা দেয়নি সরকার। তবে বাগান মালিকরা চাইলে নিরাপত্তার স্বার্থে বাগানের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা সংসদের সভাপতি (সিলেট ভ্যালি) জি এম শিবলি বলেন, চা-বাগান বন্ধের কোনো নির্দেশনা নেই। তবে আমরা সতর্ক আছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. দেবপদ রায় জানান, চা-শ্রমিকদের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে গত বৃহস্পতিবার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকেও জানিয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতে কাউকেই ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না।
