বিদেশে আটকেপড়াদের ক্রেডিট লিমিট বাড়ানোর নির্দেশ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ১০:৫০ পিএম

করোনাভাইরাসের মহামারীতে বিদেশে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের লিমিট (লেনদেন সীমা) বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনাভাইরাসের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রবিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে অনুমোদিত পরিবেশকদের (এডি) জন্য জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি আটকেপড়া যেসব বাংলাদেশির ক্রেডিট কার্ড নেই, তাদের অনুরোধে বিদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা এক্সচেঞ্জ হাউজের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠানোরও নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউন চলছে। অধিকাংশ দেশের সীমান্ত বন্ধের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা দেশে ফিরতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজ, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেক মানুষ বিদেশে গিয়ে আটকা পড়েছেন। ওই ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে ফোন ও ই-মেইল করে জানানো হয়েছে যে, তাদের ক্রেডিট কার্ডের লিমিট শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রয়োজনীয় খরচ করার অর্থ নেই। এ অবস্থায় তাদের জীবন ধারণে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের সহায়তায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, একজন বাংলাদেশি ভ্রমণ কোটায় বছরে ১২ হাজার ডলার ও চিকিৎসা কোটায় ১০ হাজার ডলার বিদেশে ব্যয় করতে পারেন।

সার্কুলারে অথরাইজড ডিলারদের বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডে ব্যক্তিগত ভ্রমণ ও চিকিৎসা কোটায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা পর্যন্ত অর্থ ছাড়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর যাদের ক্রেডিট কার্ড নেই তাদের ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে বিদেশের ব্যাংক হিসাবে ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে অথবা দেশের কোনো টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তরকারী সংস্থার মাধ্যমেও অথরাইজড ডিলাররা তাদের জন্য তহবিল জোগাতে পারেন বলে সার্কুলারে বলা হয়।

তবে এই সীমার বাইরে অনিবার্য কারণে কারও বাড়তি তহবিলের প্রয়োজন হলে অথরাইজড ডিলার নিজে অনুরোধের সত্যতা যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টিকে থাকার মতো যৌক্তিক পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারবেন। কিন্তু এর জন্য পরবর্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত