আলেমদের সঙ্গে ইফার বৈঠক

মসজিদে জামাত-জুমা চলবে, ৮ ধরনের ব্যক্তিকে না

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২০, ০৫:৩১ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে মসজিদে আজান, ইকামত ও জামাতের মতো জুমার নামাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। তবে এসব জামাতে আট ধরনের ব্যক্তিকে অংশগ্রহণ না করতে বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার ইফার মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গত রবিবার ইফার আগারগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে-কেরামদের নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুল ইসলাম। সতর্কতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে ইফা মনে করছে, রোগ ও ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা অবলম্বন ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এগুলো তাওয়াক্কুলের (আল্লার ওপর নির্ভর) পরিপন্থী নয় বরং নবীর (সা.) সুন্নত।

বিজ্ঞপ্তিতে মসজিদের বিষয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মসজিদে আজান, ইকামত, জামাত ও জুমার নামাজ অব্যাহত থাকবে। মুসল্লির অংশগ্রহণ সীমিত রাখা হবে। তবে আট ধরনের ব্যক্তি জুমা ও জামাতে অংশ নিতে পারবেন না। তারা হলেন করোনা আক্রান্ত; জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত; আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে আগতরা; এ ধরনের মানুষের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি; বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা; বয়োবৃদ্ধ, দুর্বল, নারী ও শিশু; অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিতরা ও যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন।

এতে আরও বলা হয়, ওজু করে নিজঘরে সুন্নত-নফল নামাজ আদায় করে মসজিদে গিয়ে জামাতে অংশ নেবেন। ফরজ শেষে দ্রুত বাসায় চলে যাবেন। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পরাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। হঠাৎ হাঁচি-কাশি এসে গেলে টিস্যু বা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখবেন।

ইমাম ও খতিবদের বলা হয়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। কার্পেট সরিয়ে ফেলতে হবে। জামাত, জুমার বয়ান ও খুতবা সংক্ষিপ্ত করতে হবে। ওজুখানায় পর্যাপ্ত সাবান ও টিস্যু রাখতে হবে। জামাতের কাতারে দূরত্ব রেখে দাঁড়াতে হবে। ঢাকাসহ দেশের কোনো মসজিদে বিদেশি মেহমান অবস্থান করলে, তাদের বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

করোনায় মৃতের দাফন-কাফন ও জানাজা বিষয়ে ইফা বলেছে, করোনায় মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে করতে হবে। দাফনে সহযোগিতা করতে হবে। বিরূপ মনোভাব ও কোনো ধরনের অসহযোগিতা করা যাবে না।

বৈঠকে হায়াতুল উলয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আহমদ শফি, পটিয়া জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি আবদুল হালিম বোখারী, গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার নাজেমে তালিমাত মুফতি নূরুল ইসলাম, নানুপুর ফটিকছড়ি জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মুহাম্মদ ছালাহ উদ্দিন, সিলেট জামেয়া কাসিমুল উলুম দরগাহে শাহজালালের মুহতামিম মাওলানা মুহিব্বুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়ার মুহতামিম মুফতি মোবারকুল্লাহ, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমরাম ফরীদ উদ্দীন মাসউদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত