করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কলকারখানায় বন্ধ থাকলেও এর প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার ইটভাটাগুলোতে।
এসব ভাটায় আগের মতোই কর্মচঞ্চল পরিবেশে আগুন জ্বলছে। চিমনি দিয়ে বের হচ্ছে পোড়া ইটের ধোঁয়া, কাজ করছেন শ্রমিকরা। তবে বেচাকেনা ঝিমিয়ে পড়লেও থেমে নেই কোনো কিছুই।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারায় দুইটি ও কর্ণফুলীতে নয়টি ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটা নির্মাণের আগে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। তারপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। এখানে গড়ে ওঠা অধিকাংশ ইটভাটা অনুমোদনহীন। এসব ভাটায় শত শত শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
সরেজমিন কয়েকটি ইটভাটায় গিয়ে দেখা গেছে, ভাটাগুলোতে কাজ কর্ম চলছে আগের মতোই। প্রতিটি ভাটায় শ্রমিকরা কাজ করছেন। সেখানে করোনার কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। একসঙ্গে অনেক শ্রমিক গাদাগাদি করে কাজ করছেন। দু-একজন ছাড়া কারও মুখে মাস্ক নেই। তবে ক্রেতাসাধারণের আনাগোনা কম দেখা গেছে।
কর্ণফুলীর ইট তোলা শ্রমিক রিটন বলেন, ‘আমাদের ভাটা থেকে মালিকপক্ষ কোনো নিষেধ করেনি। তা ছাড়া বসে থাকলে চলে না। কয়েক দিন পর থেকেই তো বৃষ্টি শুরু হবে। তখন আর কাম করা যাবে না। তাই এখন নিয়মিত কাজ করছি।’

এলাকাবাসীর শঙ্কা, ভাটাগুলোতে কাজ করায় ধুলাবালির কারণে এমনিতেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকেন শ্রমিকরা। বর্তমানে করোনার কারণে তাদের সে ঝুঁকি মারাত্মক আকারে দেখা দিয়েছে। অথচ শ্রমিক-মালিক কেউই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিচ্ছেন না। তাদের এ গাফিলতির কারণে যে কোনো সময় তারা করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। আর তা ছড়িয়ে পড়তে পারে আশপাশের এলাকায়।
বটতলীর কর্ণফুলী ব্রিকসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হারুন জানান, করোনার কারণে অনেক শ্রমিক কাজে আসছে না। কোটি টাকার বেশি শ্রমিক মাঝিদের অগ্রিম দেওয়া আছে। কাজ না করালে তারা এই টাকা ফেরত দেবে না। তাই সীমিত আকারে কাজ চালাচ্ছি।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সব কলকারখানা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া আছে। ইটভাটায় যদি কাজ চলে তাহলে দ্রুত বন্ধ করা হবে।
