পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছামতো টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করছেন ডিলাররা। এতে সীমিত আয়ের মানুষ বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তাদের চাহিদামতো খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারছেন না। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে নির্ধারিত মূল্যে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করার নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না ডিলাররা। তারা নিজেদের ইচ্ছামতো মূল্যে পণ্য বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ডিপো থেকে খাদ্যসামগ্রী উত্তোলন ও বিক্রির প্রক্রিয়ায় যথাযথ তদারকিসহ স্বচ্ছতা না থাকায় টিসিবির কার্যক্রম স্বল্প আয়ের মানুষের কোনো উপকারে না আসার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, কলাপাড়ার উপকূলীয় এলাকার স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য পৌর শহরে লতিফ ট্রেডার্স ও আলম ট্রেডার্স নামে লাইসেন্সধারী দুজন ডিলার রয়েছেন। উভয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে কখনো পণ্যসামগ্রী বিক্রি না করে নিজেরা সিন্ডিকেট করে ইচ্ছামতো শহরের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে দু-এক দিন বিক্রি করছেন। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের প্রয়োজনের সময় টিসিবির ডিলারদের কাছ থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারছেন না। এমনকি এসব ডিলার শহরের প্রভাবশালী কিছু মানুষকে ম্যানেজে রাখতে ওই প্রভাবশালীদের কাছে তাদের চাহিদামতো পণ্য হোম ডেলিভারি দিয়ে আসছেন। আর নিম্নবিত্ত মানুষজন যারা ডিলারের ঘরের সামনে ঘণ্টাকাল সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকছেন তারা পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে গেছে শুনে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।
এদিকে পৌর শহরের লতিফ ট্রেডার্স ও আলম ট্রেডার্স মার্চ মাসে বরিশাল ডিপো থেকে সিন্ডিকেট করে তেল, চিনি ও ডাল সামগ্রী দুই দফায় ১১ ও ৭ টন উত্তোলন করেন। এসব পণ্য আলাদাভাবে দুজন ডিলার ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে মানুষের কাছে বিক্রি করার নিয়ম থাকলেও পৌর শহরের ট্রলার ঘাটে অবস্থিত একটি ঘরে সীমিত পণ্যসামগ্রী বিক্রি করেছেন তারা। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর তদারকি করার নিয়ম থাকলেও কখনো তিনি তদারকি করেছেন বলে শোনা যায়নি। এতে এসব পণ্যসামগ্রী দৃশ্যত লাইনে দাঁড়োনো মানুষকে না দিয়ে বিক্রি শেষ হয়েছে বলে ডিলারদের দাবি। এ ছাড়া প্রতিবার এসব পণ্য ইউএনওকে জানিয়েই বিক্রি করা হয়েছে বলেও তাদের দাবি।
টিসিবির ডিলার লতিফ স্টোরের স্বত্বাধিকারী লতিফ খালাসি জানান, তারা ইউএনওকে জানিয়ে দুজন ডিলার একত্রে শহরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন।
টিসিবির ডেপুটি সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ও বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস প্রধান আনিচুর রহমান বলেন, ডিলারদের পৃথকভাবে ট্রাকে করে ভ্রাম্যমাণভাবে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে হবে। একই স্থানে বসে বিক্রি করার কোনো নিয়ম নেই।কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, নীতিমালা অনুসরণ না করলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
