উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ সবজি বাজারখ্যাত মহাস্থান হাটে স্মরণকালের মধ্যে সবজির দরপতন হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে বাজারে ক্রেতাসংকট দেখা দেওয়ায় সবজি এনেও দাম পাচ্ছেন না কৃষক। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন যে বাজার থেকে ৪০-৫০ ট্রাক কাঁচা সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হতো, এখন সেখানে ৪-৫ ট্রাক সবজিও যাচ্ছে না বাইরে। ফলে কৃষকরা তাদের ফসল এনে দাম পাচ্ছেন না।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বড়চাপর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম তার জমির ৫ মণ বেগুন বিক্রি করতে এসেছিলেন মহাস্থান হাটে। সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত ক্রেতার আশায় বসে থেকেও তিনি সেই বেগুন বিক্রি করতে পারেননি। গাবতলী উপজেলার উনচুরখী গ্রামের কৃষক আবদুল হান্নান ৬ মণ টমেটো এনে ৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। আর সদর উপজেলার পলাশবাড়ি গ্রামের কৃষক ৫০টি মিষ্টিকুমড়া এনে প্রতিটি বিক্রি করেছেন ২০ টাকা। গত বুধবার বগুড়ার সবজির পাইকারি বাজার মহাস্থান হাট ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
মহাস্থান পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ ১০ টাকা কেজি, বেগুন ৫-৭ টাকা, পেঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৫ টাকা, একটি মিষ্টিকুমড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা, বাঁধাকপি একটি ৩ টাকা, করলা ২০ টাকা কেজি, একটি লাউ ১০ থেকে ১৫ টাকা, টমেটো ৭ থেকে ৯ টাকা কেজি, শজনা ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর মুলার কোনো ক্রেতাই নেই। এক টাকা কেজিতেও অনেকে মুলা বিক্রি করতে পারেননি।
সবজি বিক্রি করতে আসা কৃষকদের মধ্যে নারায়ণশহর গ্রামের ময়েজ মিয়া, হুকমাপুরের ধীরেজ শেখ, সচিয়ানী গ্রামের আকবর প্রামাণিকসহ কয়েকজন জানান, ঢাকাসহ বাইরের জেলার কোনো ব্যাপারী সবজি কিনতে না আসায় সবজির দাম নেই।
করোনার কারণে অধিকাংশ হাট-বাজারে ক্রেতা সমাগম কম থাকায় কৃষকরা তাদের জমি থেকে ফসল তুলে বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে অনেকের জমিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বেগুন, টমেটো, মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি।
মহাস্থান হাটের ইজারাদার শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা সবজি এনে বিক্রি করতে পারছেন না। কারণ বাইরের ক্রেতারা মহাস্থানে আসছেন না। আগে যেখানে প্রতিদিন অন্তত ৫০ ট্রাক সবজি বাইরে যেত, এখন ৫ ট্রাকও যাচ্ছে না। এ কারণে কৃষকরা তাদের জমি থেকে সবজি তুলে বাজারে এনে দাম পাচ্ছেন না।
