বাগেরহাটের শরণখোলায় সরকারের বরাদ্দ দেওয়া ১০ টাকা কেজি দরের ১৮ বস্তা চাল এক মুদি দোকানির গুদাম থেকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় মুদি দোকানি রফিকুল ইসলাম ওরফে লিটন মুন্সিকে (৩৫) আটক করা হয়। তবে খাদ্য বিভাগের ইউনিয়ন ডিলার হাওলাদার তরিকুল ইসলাম তারেক পালিয়ে গেছেন।
গত শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ি বাজারে অভিযান চালিয়ে এই চালের বস্তাগুলো জব্দ করেন। প্রশাসনের হাতে আটক মুদি দোকানি রফিকুল ইসলাম উদ্ধার হওয়া চাল খাদ্য বিভাগের ডিলার হাওলাদার তরিকুল ইসলাম তারেকের বলে দাবি করেছেন। আটক লিটন মুন্সি উপজেলার রায়েন্দা গ্রামের মজিদ মুন্সীর ছেলে।
হাওলাদার তরিকুল ইসলাম তারেক সাউথখালী ইউনিয়নের খাদ্য বিভাগের ডিলার। তিনি শরণখোলা উপজেলা সাউথখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজের ছোট ভাই।
শরণখোলা ইউএনও সরদার মোস্তফা শাহিন এই প্রতিবেদককে বলেন, দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ হওয়া চাল তাদের না দিয়ে গুদামে সরিয়ে রাখা হয়েছেএমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাফালবাড়ি বাজারের মুদি দোকানি মো. রফিকুল ইসলামের গুদামে অভিযান চালিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে তার গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের ১৮ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার খাদ্য বিভাগের সাউথখালী ইউনিয়নের ডিলার হাওলাদার তরিকুল ইসলাম তারেক এই মুদি দোকানির গুদামে চাল সরিয়ে রেখেছিলেন বলে আটক মুদি দোকানি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। অভিযানের খবর পেয়ে ডিলার তারেক পালিয়ে গেছেন। তাকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এই চাল তিনি স্থানীয় দরিদ্রদের মাঝে বিক্রি না করে বেশি দাম পাওয়ার আশায় গুদামে সরিয়ে রেখেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ইউনিয়নের কার্ডধারীরা বিগত দিনে ঠিকমতো চাল পেয়েছে কি না তা তালিকা দেখে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বাগেরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোতোষ কুমার মজুমদার বলেন, গত ১২ মার্চ খাদ্য বিভাগের সাউথখালী ইউনিয়নের ডিলার হাওলাদার তরিকুল ইসলাম তারেক ৩৯০ জন কার্ডধারী দরিদ্রের জন্য খাদ্য গুদাম থেকে ১০ টাকা কেজি দরের সাড়ে এগারো টন চাল উত্তোলন করেন। যে মাসে ডিলার চাল উত্তোলন করবেন সেই মাসের মধ্যে সব বিক্রি করার বিধান রয়েছে। আমাদের এই ডিলার নিয়ম না মেনে চাল অন্যান্য গুদামে সরিয়ে রেখে অপরাধ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী ওই ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শরণখোলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ডিলার তারেক ও দোকানি রফিকুলের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আবু সাইদ বলেন, সরকারি বরাদ্দ হওয়া চাল উদ্ধারের ঘটনায় আটক মুদি দোকানি ও ডিলার তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেছে খাদ্য বিভাগ। ডিলার তরিকুলকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে ডিলার তারেক উদ্ধার হওয়া চাল তার না বলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেছেন।
