করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে কী বলছেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৩৭ এএম

দিনকে দিন ভয়ংকর আকার ধারণ করা নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব। সেই ডিসেম্বর থেকে ভ্যাকসিনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন দেশের ৩৬টির মতো কোম্পানি।

দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, অধিকাংশ কোম্পানি তাদের ভ্যাকসিনের ‘হিউম্যান ট্রায়াল’ শুরু করেছে। এক বছরের ভেতর কয়েকটি কোম্পানির ভ্যাকসিন চলে আসবে। কিন্তু প্রশ্ন হল ততদিন কি পৃথিবী টিকবে?

যুক্তরাজ্যের প্রধান মেডিকেল উপদেষ্টা ক্রিস উইটি দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে আশার কথা শুনিয়েছেন, ‘ভ্যাকসিন আসার আগে আমরা চেষ্টা করছি বিকল্প কোনো ওষুধে কাজ সারার। আশা করছি দ্রুত ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে পারব।’

ভ্যাকসিনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের সর্বশেষ বক্তব্য এমন, ‘আমরা ইতিমধ্যে কার্যকরী ভ্যাকসিন তৈরি করেছি, যেটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। এখন নতুন ওষুধ তৈরি করতে সরকারি অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে।’

ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকেরাও ভ্যাকসিন তৈরির কথা জানিয়েছেন। তারা ইতিমধ্যে ইঁদুরের শরীরে প্রয়োগ করে সফলতা পেয়েছেন। এই ভ্যাকসিনটি শরীরে দেয়ার পর ২ সপ্তাহের মধ্যে করোনাভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কমপক্ষে ২০টি ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যে সিয়াটলে একটির ‘হিউম্যান ট্রায়াল’ হয়েছে।

ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা চলতি মাসের শুরুতে জানান তারা ‘প্রোটাইপ ভ্যাকসিন’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এই ভ্যাকসিন দিতে পারলে করোনাভাইরাস মানুষের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না বলে প্রমাণ পেয়েছেন তারা। খুব তাড়াতাড়ি তারা হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করবেন।

আমেরিকায় প্রতিদিন শতশত মানুষ মারা যাচ্ছেন। মানুষকে বাঁচাতে সেদেশের বিজ্ঞানীরা একজোট হয়ে কাজ করছেন। তারাও বলছেন কমপক্ষে দেড় বছরের আগে ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়ার মতো উপযোগী করা যাবে না।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অ্যান্টনি ফৌসির কথায়, ‘সাধারণ মানুষের নাগালে আসতে কমপক্ষে দেড় বছর লাগবে। এর আগে  সতর্ক থেকে সাধারণ ওষুধে ভাইরাসটি মোকাবিলা করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত