খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজারের একটি নাশতার দোকান কামরুল হাসানের। গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দোকানের সামনে বসে গল্প করছেন মলিন চেহারার দুই কর্মচারী। গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারের দু-একটি দোকান বাদে সব বন্ধ।
করোনা পরিস্থিতি, লকডাউনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে তারা বললেন, দোকান মালিকরা বাড়িতে বসে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের চাল-ডাল আগে থেকে কিনে রাখা। আমাদের দিন কীভাবে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে কারও কোনো আগ্রহ নেই।
পরোটা তৈরির কারিগর শরিফুল জানান, দোকানটিতে তারা দুজন কর্মচারী। এক বেলা কাজ করলে ৩০০ টাকা পান। ২৭ মার্চ সকাল থেকে দোকান বন্ধ, কাজও বন্ধ। দু-এক দিন পর দোকানের একটি শাটার খুলে কিছু বেচার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এসে দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। আয়-রোজগার হয়নি। প্রথম দুদিন কোনো রকমে চলেছেন, কিন্তু এখন আর চলছে না। করোনাভাইরাসের চেয়ে তাদের এখন ভাতের দুশ্চিন্তা বেশি।
খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের কাঁঠালতলা বাজারের একটু আগে সড়কের পাশেই ঝুপড়ি ঘরে চা-বিস্কুট বিক্রি করেন রহিমা। দুই সন্তান নিয়ে তিনি বসবাস করেন। একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। দোকানের একটু দূরে তিনি বসে ছিলেন আর এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, তিন-চারজন লোক এসেছে চা খেতে। ঘরের মধ্যে কেটলিতে চা তৈরি, কিন্তু দিতে পারছি না। কারণ একটু আগে পুলিশের গাড়ি গেল। তাই এদিক-ওদিক দেখে নিচ্ছি সুযোগ পেলে ওদের চা দেব। আজ বেচাকেনা না হলে আমাদের সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে।
ডুমুরিয়া বাজারের বেশ ভেতরে নাশতার দোকানদার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিদিন যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে বাজার-সওদা করে কিছু টাকা জমিয়ে রাখতে হয় সপ্তাহ শেষে সমিতির কিস্তি পরিশোধের জন্য। আলাদা করে চাল-ডাল কিনে রাখার সুযোগ আমাদের নেই। সকালে এসেছি এলাকার মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে দোকান চালু করা যায় কি না দেখতে। কিন্তু কেউ রাজি হননি।
দাকোপ উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের দিনমজুর মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এক দিন কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হয়, এখন করোনার কারণে ভয়ে বাড়িতে বসে আছি। সারা দিনে একবেলা খাবার পাই না।’
