করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা সোমবার সকাল থেকে অঘোষিত লক ডাউনে পরিণত হয়েছে।
উপজেলার সাথে জেলা সদরের যাতায়াতের সমস্ত পথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় সকল পথ খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক।
এ নিয়ে জেলার মানুষের মধ্যে পূর্বের তুলনায় আরো বেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত দুই দিন পূর্বে মাদারীপুর থেকে প্রেরিত নমুনার ২৩ জনের রিপোর্ট পেয়েছে মাদারীপুর স্বাস্থ্য বিভাগ এর মধ্যে ২২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আর একজনের করোনা পজেটিভ হয়েছে, যার তথ্য রোববার আইইডিসিআর এর প্রেসব্রিফিং এ জানানো হয়।
জেলা ও শিবচর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনায় সারা দেশের মধ্যে মাদারীপুর জেলা রয়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিতে। মাদারীপুর জেলায় বিশেষ করে শিবচর উপজেলার করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি দিন দিন বাড়তে থাকায় সোমবার সকাল থেকে উপজেলার সাথে জেলা সদরের যাতায়াতের সমস্ত পথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। তবে খাদ্যদ্রব্যের পন্যবাহী গাড়ী, ঔষুধের গাড়ী, এ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরী সেবার যানবাহন যাতায়াত করতে পারবে। কোন যাত্রীবাহী বাহন চলাচল করতে পারবে না। শিবচরের কোন সাধারণ মানুষ মাদারীপুর শহরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং মাদারীপুরের কোন মানুষ শিবচরে যেতে পারবে না। রাস্তায় পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী র্যাবের টহল আরো জোরদার করা হবে। আইইডিসিআর যে সকল জেলা ঝুঁকিপূর্ণ বা ক্লাস্টার ঘোষণা করেছে তার মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর জেলা।
এছাড়া রোববার থেকে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।
শিবচরের পাশাপাশি মাদারীপুরের অন্য তিনটি উপজেলায় বন্ধ রয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান-পাট ছাড়া সমস্ত দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া সন্ধ্যায় ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ফার্মেসী ছাড়া সমস্ত দোকান বন্ধেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে শিবচরে মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার থেকে পুরো শিবচর উপজেলার মানুষের চলাচলের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, সিভিল সার্জন ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য গত ১৯ মার্চ থেকে করোনা ভাইরাসের কারণে শিবচর পৌরসভার ২ নং, ৩নং ওয়ার্ড, বহেরাতলা দক্ষিণ ও পাঁচ্চর ইউনিয়নের একটি গ্রামরে মানুষের চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান, ফার্মেসি ও জরুরী সেবা ব্যতীত প্রায় বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। গত ২০ মার্চ থেকেই এই চারটি এলাকায় মানুষকে নিজ ঘরের ভেতরে অবস্থানের জন্য অতিরিক্ত আড়াইশ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর থেকে ঐ চার এলাকার মানুষের জন্য সরকারি বেসরকারিভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা থেকে গত কয়েকদিনে যাদের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রেরণ করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ২৩ জন ব্যক্তির রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২২ জন ব্যক্তির শরীরের করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বাকি একজনের করোনা ভাইরাস পজেটিভ হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন কোন ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়নি। বর্তমানে মাদারীপুরে হোম কোয়ারেন্টে আছেন ১৮৪ জন। আইসোলেশনে আছে ৪ জন। এছাড়া ৫৭ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে শিবচরে মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার থেকে পুরো শিবচর উপজেলার মানুষের চলাচলের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান বাদে সকল দোকান ও যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হলেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রতিরোধের জন্য সোমবার সকাল থেকে শিবচর উপজেলার সাথে জেলা শহরের সকল যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শিবচরের কোন মানুষ মাদারীপুর শহরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং মাদারীপুরের কোন মানুষ শিবচরে যেতে পারবে না। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা বহাল থাকবে।
এখন শিবচর অঘোষিত লক ডাউন কি না জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, কিছুটা অঘোষিত লক ডাউনের মত এখন শিবচরের অবস্থা।
