নির্দেশ অমান্য করে ব্যাংক বন্ধ থাকায় ভৈরবের গ্রাহকদের দুর্ভোগ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২০, ১০:৫৩ পিএম

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংক বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শত শত গ্রাহক। তারা জরুরি প্রয়োজনে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। অনেকে তাদের মাসিক বেতন তুলতে না পেরে পড়েছেন আর্থিক সংকটে।

নদীবন্দর ও ব্যবসাকেন্দ্র ভৈরবে ২৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা-এই ৪টি সরকারি এবং ২টি বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে এবি ও এনআরবিসি বাদে ২০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এগুলো হলো- প্রাইম, প্রিমিয়ার, ইসলামী, ডাচ-বাংলা, সিটি, ঢাকা, এশিয়া, উত্তরা, ট্রাস্ট, আল-আরাফা, ইস্টার্ন, পুবালী, স্ট্যান্ডার্ড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, ব্র্যাক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল ইত্যাদি।

জরুরি সেবার আওতায় চাল, মুদি ও ওষুধের দোকান, কৃষি পণ্য, কাঁচাবাজার দোকানগুলি খোলা থাকায় এসব ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে টাকা জমা বা উত্তোলন করতে পারছে না। অনেক পেশাজীবী বা সাধারণ মানুষ সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য ব্যাংকে জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছে না। এতে করে এই চরম মহামারির সময়ে তারা পড়েছেন সংকটে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে ব্যাংক খোলা থাকার খবর পেয়ে অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে ব্যাংকে এসে ঘুরে যাচ্ছেন। কোন কোন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গেটে ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ নোটিশ ঝুলিয়ে রেখেছেন। আবার কোন কোন ব্যাংক তাও করেননি। ফলে গ্রাহকরা পড়ে গেছেন গোলক ধাঁধায়।

ব্যাংক গ্রাহক নাজমুল হক, রোজিনা, সজল কুমার দে জানান, তাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকারি নির্দেশ মেনে ভৈরবে বন্ধ থাকা ব্যাংক গুলির কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন। এই বিষয়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এবি ব্যাংক ম্যানেজার মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভৈরবে এবি ব্যাংক খোলা আছে। লেনদেন চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্যাংক গুলিকে প্রতিদিন সীমিত পরিসরে লেনদেন করতে বললেও প্রতিটি ব্যাংক তাদের হেড অফিসের নির্দেশে পরিচালিত হয়। যারা শাখা বন্ধ রেখেছেন, তারা নিশ্চয় তাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই বন্ধ রেখেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত