নিয়ন্ত্রণহীন ক্রেতার ভিড় সামলাতে না পেরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পৌরসভায় খোলাবাজারে চাল বিক্রি কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শহরের সোনালী ব্যাংক সড়ক ও বাসটার্মিনাল এলাকার দুটি স্থানে ১০ টাকা কেজি দরে জনপ্রতি ৫ কেজি করে মোট দুই টন চাল বিতরণের কথা ছিল। চাল পাওয়ার আশায় সকাল থেকে দুটি স্থানে আশপাশের গ্রাম ও মহল্লা থেকে শত শত লোক ভিড় জমায়। ১০টা বাজার আগেই বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটায় ভিড় ঠেলে চাল বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। এতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় সম্ভব না হওয়ায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহনাজ মিথুন মুন্নী পুলিশের সহযোগিতায় দুটি স্থানের মানুষের জটলা ভেঙে দিয়ে চাল বিক্রি কার্যক্রম স্থগিত করে দেন।
পার্বতীপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দেলোয়ার হোসেন সরকার বলেন, বাসটার্মিনাল এলাকায় ডিলার সাদিকুল ইসলাম ও পৌরসভায় সোনালী ব্যাংক সড়কে ডিলার গোলাম ফারুক অভি চাল বিক্রির দায়িত্বে ছিলেন। ডিলার সাদিকুল ইসলাম ভিড় সামলাতে না পারায় এক কেজি চালও বিক্রি করতে পারেননি। তবে, চাল বিক্রি কার্যক্রম বন্ধের আগে সোনালী ব্যাংক সড়কে ডিলার গোলাম ফারুক অভি ৪১ জনের কাছে ২০৫ কেজি চাল বিক্রি করতে সক্ষম হন।
এ বিক্রি কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা পার্বতীপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফজাল হোসেন দাবি করেন, সোনালী ব্যাংক সড়কে ডিলার গোলাম ফারুক অভি বরাদ্দের ১ টন চাল পুরোটাই বিক্রি করেছেন। এদিকে, চাল কিনতে না পেরে শত শত ক্ষুব্ধ ও হতাশ মানুষ খালি হাতে বাড়ি ফিরে যান।
ইউএনও শাহনাজ মিথুন মুন্নী বলেন, চাল কেনার জন্য দুটি স্থানে নিরাপদ দূরত্ব না মেনে বিপুল সংখ্যক মানুষ সমবেত হয়। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায় এদিনের খোলা বাজারে চাল বিক্রির কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করে সমবেত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
