বদলে যাওয়া প্রজন্ম পাবে বিশ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ১০:২০ পিএম

পৃথিবীর ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে এমন কিছু ঘটনার জন্ম হয়, যা পরবর্তী সময় ও পারিপার্শ্বিক তাবৎ বাস্তবতাকে আমূল পাল্টে দেয়। তেমনি এক ঘটনা বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে করোনাভাইরাসের বিস্তার ও এতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু। মহামারীর প্রভাবে মানুষের মধ্যে কীভাবে মানসিক পরিবর্তন হয় তা নিয়ে গবেষণা করছেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক স্টিভেন টেইলর। করোনাভাইরাসের কারণে কীভাবে একটি প্রজন্মের ওপর গভীর প্রভাব পড়ছে, এমন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি স্টিফেন দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখেছেন।

স্টিফেন লিখেছেন, একটা মহামারী আসছে তা জানতেন তিনি। কিন্তু এটা যে এত জলদি আসবে তা তিনি অনুধাবন করতে পারেননি। চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস মহামারী হিসেবে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি মহামারী মনোবিজ্ঞান বিষয়টি নিয়ে লেখা বইটির কাজ শেষ করেন। ওই বইয়ে তিনি তার কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। কীভাবে একটি ভাইরাস মানব প্রজন্মের ওপর মনস্তাত্বিক প্রভাব ফেলে তা দেখিয়েছেন তিনি।

এক্ষেত্রে বিগত মহামারীগুলোর বাস্তবতাকে গবেষণা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, বর্ণবাদ, আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া, যড়যন্ত্র তত্ত্বের বিস্তার ও ছিনতাই এবং চুরির ঘটনা বাড়বে। শারীরিকভাবে মানুষ মানুষের থেকে দূরে থাকার কারণে পরোপকার ও উদারতার বিষয়টি কমে আসবে। ২০০৯ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী এবং ২০০৩ সালের সার্স ভাইরাসের সময় জনস্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা একটি জনগোষ্ঠীর মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল। কভিড-১৯-এর ক্ষেত্রেও কিছু স্থায়ী প্রভাব অবশ্যম্ভাবী। বহু মানুষ তাদের চাকরি হারাবে এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে পড়বে। আরও অনেকে তাদের প্রিয়জন হারানোর কষ্টে ভুগবে। লকডাউনের কারণে বিয়ে বা সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোও হুমকির মুখে পড়বে।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাত হাজার প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ে জরিপ করা হয়। সেখানে প্রায় প্রত্যেকের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ লক্ষ করা যায়। তবে এদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারলেও ২৫ শতাংশের মধ্যে কভিড স্ট্রেট সিনড্রোম স্পষ্ট দেখা যায়। এই মানুষগুলোর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তীব্র ভয় কাজ করে। এর বাইরে তারা করোনার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বেশ চিন্তিত। ইন্টারনেটে কভিড-১৯ সম্পর্কিত কোনো সংবাদই তাদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এদের মধ্যে এতটাই বিস্তার পেয়েছে যে তারা বিদেশিদের কথা শুনলেই ভয় পাচ্ছে। বিদেশি মাত্রই যেন ভাইরাস বহনকারী কেউ এমনটা মনে করছে তারা। এসব উপসর্গকে বলা হচ্ছে করোনাভাইরাসের মনস্তাত্বিক প্রভাবগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃ তিক দুর্যোগ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে এসব আঘাতমূলক ঘটনা থেকে শারীরিক সমস্যা ও দুর্ঘটনা-পরবর্তী মানসিক বৈকল্য (পিটিএসডি) দেখা যায়। আর এসব উপসর্গ বা সমস্যাগুলো দুর্যোগের পর প্রকট রূপ নেয়। ইতিমধ্যেই করোনায় আক্রান্ত বা যারা এখনো আক্রান্ত হয়নি, এমন ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে এই মানসিক ব্যাধি দেখা দেবে বলে মনে করেন স্টিফেন। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তাদের অনেকের মধ্যে পিটিএসডি দেখা যায়, আর এদের সংখ্যা প্রায় ৪৪ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত