করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটিতে কর্মহীন শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তা তহবিল গঠনের নামে উত্তোলন করা চাঁদার টাকা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন পাবনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়া ও তার অনুসারী ঠিকাদার সিন্ডিকেট।
দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর চাঁদা উত্তোলন কাণ্ডের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী সম্পৃক্ত নন বলে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ওই ঠিকাদার সিন্ডিকেট।
বুধবার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদের নিকট ভুল স্বীকার করে ত্রাণ কার্যক্রমের সরকারি অনুমোদনও চান তারা। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
পাবনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে কর্মহীন শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তায় তহবিল গঠনের নামে নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়া তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার নাইস কন্সট্রাকশনের মালিক হাজি ফারুককে দিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রায় ২৬ লাখ টাকা চাঁদা তোলেন। কেবল ঠিকাদারই নয় উপজেলা প্রকৌশলীদেরও এই তহবিলে অর্থ প্রদানে বাধ্য করা হয়।
উত্তোলন করা টাকার সামান্য কিছু অংশ দিয়ে চাল, আলু, তেল, সেমাই, ডাল কিনে বাকি অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়ার নির্দেশে এ ত্রাণ কার্যক্রম চলছে বলে হাজি ফারুকের ছেলে রিফাত ইসলাম ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস ও ছবি আপলোড করেন। ভুক্তভোগী সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে দেশ রূপান্তরে গত ৭ এপ্রিল সংবাদ প্রকাশ হলে শুরু হয় তোলপাড়।
বুধবার দুপুরে ত্রাণ কার্যক্রমে আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য ঠিকাদারদের একটি দল জেলা প্রশাসকের কাছে যান। তবে বিতর্কিত এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কোন সিদ্ধান্ত দেননি বলে নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ঠিকাদার।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এবং করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, অমান্য করে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে না জানিয়ে এলজিইডি অফিসে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করায় সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। বুধবার ঠিকাদারদের একটি দল এ কাজে নির্বাহী প্রকৌশলী জড়িত নন দাবি করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি চান। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তাই এ ক্ষেত্রে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
