করোনা এইডস নয় যে লুকাতে হবে: ডিএমপি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৫৩ পিএম

তথ্য গোপন নিয়ে আসবে ভয়াবহ বিপর্যয়

কোভিড ১৯ একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগটি গোপন পাপ থেকে হয় না। এটি এইডস নয় যে লুকাতে হবে।
করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি বা আক্রান্ত ব্যক্তির রিলেটিভ/ রিলেটিভদের তথ্য গোপন বা সামান্য মিথ্যা তথ্য দেশ ও জাতির জন্য বয়ে আনতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়।

এক ব্যক্তি আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল শ্বাসকষ্ট নিয়ে। এক্সরে’তে কনসোলিডেশান পাওয়া গেল। করোনা সন্দেহে স্যাম্পল পাঠানো হলো IEDCR এ। সেই ব্যক্তি আজগর আলী হাসপাতাল থেকে DORB [Discharge On Risk Bond (নিজ দায়িত্বে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ছাড়পত্র] নিয়ে ঢাকা ডিএমসি’র সার্জারী ইউনিট ৫ এ ভর্তি হলেন পেটে ব্যথার কথা বলে।

চিকিৎসকরা তার পেটে ব্যথার কারণ খুঁজতে রোগীকে শারীরিকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। সেই রোগীকে দেখার পর চিকিৎসকরা ওয়ার্ডে রাউন্ডে যান। অন্য রোগী দেখেন।

এই রোগীর শ্বাসকষ্ট বাড়লে বের হয়ে আসে থলের বেড়াল। রোগীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ কিন্ত ভর্তি হয়েছেন পুরান ঢাকার এড্রেস ব্যবহার করে।

তিনি যে কোভিড ১৯ Suspected ছিলেন, সেই তথ্য গোপন করেছিলেন সেই ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা। রিপোর্ট পেয়ে নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা।

তারপর এই রোগীকে কুয়েত মৈত্রী হাসাপাতালে রেফার করা হলে সেখানে যাওয়ার পথে রাস্তায় মারা যান তিনি।

ফলাফল: ডিএমসি’র সার্জারী ইউনিট ৫ লকডাউন। ইউনিট হেড থেকে শুরু করে সব চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয় সহ ২১ জন কোয়ারেন্টাইনে। বন্ধ হয়ে গেলো একটি ইউনিটের সব সেবা [তথ্য: ডাঃ জোবায়ের আহমেদ]।

কোভিড ১৯ Suspected সেই ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যরা প্রথম থেকেই যদি তথ্য গোপন না করে আজগর আলী হাসপাতাল বা ডিএমসি’র চিকিৎসকদের সঠিক তথ্য দিতেন, তাহলে তাকে হয়তো তাৎক্ষনিকভাবে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রেফার করা হতো। আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে হয়তো সুস্থ হয়েও উঠতে পারতেন তিনি। আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার হার তো নেহায়েৎ কম নয় (আজ পর্যন্ত সনাক্তকৃত ৪২৪ জনে সুস্থ হয়েছেন ৩৩ জন। হয়তো আরো অনেকেই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরবেন)। তিনিও হতে পারতেন সেই সৌভাগ্যবানদের একজন।

তথ্য গোপন করায় প্রথম থেকেই তার জন্য যে চিকিৎসা প্রযোজ্য ছিল, তা থেকে যেমন নিজেকে বঞ্চিত করেছেন তিনি, তেমনি বঞ্চিত করেছেন শত শত অসুস্থ ব্যক্তিকে। যে অসুস্থ ব্যক্তিরা ডিএমসি’র সার্জারী ইউনিট ৫ এ চিকিৎসা নিতে পারতেন। পাশাপাশি সার্জারী ইউনিট ৫ এর ইউনিট প্রধান, সব চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়সহ ২১ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছেন তিনি।

দেশের এই ক্রান্তিকালে এতো চিকিৎসক ও সাপোর্টিং স্টাফের কোয়ারেন্টাইনে চলে যাওয়া অপূরনীয় ক্ষতি।

প্রতিনিয়ত এরকম হয়েই যাচ্ছে। আমরা তথ্য গোপন করছি। মিথ্যা তথ্য দিচ্ছি। আমরা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাচ্ছি।

করোনা ভাইরাস নিয়ে অযথা আতংকিত হবেন না।
এই ভাইরাস জনিত অসুস্থতায় বেশীরভাগ অসুস্থ লোক কোন চিকিৎসা ছাড়া শুধু আইসোলোশনে থেকেই সুস্থ হয়ে যাবেন। যদি যথাযথ বিধিনিষেধ মেনে আইসোলোশনে থাকেন তারা।

ভয় হলো রিস্ক গ্রুপ নিয়ে। যারা বয়স্ক, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশান, হৃদরোগ, ফুসফুসজনিত রোগ, ক্যান্সার সহ নানা রোগে ভুগছেন এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল, তারাই ঝুঁকিতে।

এই রিস্ক গ্রুপ যেন কোনভাবেই আক্রান্ত না হন, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন।

আপনি ঘরে থেকে নিজেকে ও নিজ পরিবারকে করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে পারেন।

ঘরে থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

এটাই এখন দেশের জন্য আপনার অবশ্য করণীয় দায়িত্ব।

[ডিসি তেজগাঁও ডিএমপি'র ফেইসবুক পেজ থেকে নেয়া। বানান ও বক্তব্য একই রাখা হয়েছে।]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত