নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর বাড়ির কাছেই পড়ে থাকা মৃত গিটারিস্ট খাইরুল আলম হিরো করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও জেলার করোনা বিষয়ক প্রতিনিধি ডা. জাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, হিরোর করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টায় প্রচণ্ড জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। পরে ভোরেই অ্যাম্বুলেন্সে করে শহরের দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে তার মরদেহ নেয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজনের বাধায় চলে যান অ্যাম্বুলেন্স চালক। ওই সময় পরিবারের লোকজনও মরদেহ ধরতে আসেননি।
স্থানীয়রা জানান, দেওভোগ কৃষ্ণচূড়া এলাকার বাসিন্দা খাইরুল আলম হিরো সংগীত জগতে ‘হিরো লিসান’ নামে পরিচিত। তিনি মূলত বেস গিটারটি। সেই সঙ্গে ঝুটের ব্যবসাও করতেন। গত ৭-৮দিন আগে থেকে তিনি প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন। সেই সঙ্গে শ্বাসকষ্টও ছিল। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে তাকে শহরের দেওভোগের বাসায় আনা হয়। ৭ এপ্রিল ভোরে তিনি মারা যান। ওই সময়ে মরদেহটি এলাকা থেকে নিয়ে যেতে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন এসে বাধা হয়। ফলে মরদেহ পড়ে থাকে বাড়ির গেটের সামনেই। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া হলে বিষয়টি সিটি করপোরেশনের নজরে আসে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মৃত্যুর সাত ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে যান সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আফরোজা হাসান বিভা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তফা আলী শেখ ও ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশ। তাদের উপস্থিতিতে মরদেহ স্বজনদের অনুমতিক্রমে নাসিকের তত্ত্বাবধানে কবর দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পরিবার ও বাড়ির সবাইকে আপাতত কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, খবর পেয়ে আমরা সকালে ঘটনাস্থলে যাই। নাসিকের তত্ত্বাবধানে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে।
