করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনের শিকার পৃথিবীর বহু মানুষ। প্রাণঘাতী ভাইরাসটি বিশ্বজুড়েই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে হঠাৎ ছন্দপতন এনে দিয়ে সব স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে। সম্প্রতি বিভিনড়ব দেশে লকডাউনে থাকা শহরের বাসা-বাড়ির জানালা ও ব্যালকনিতে দেখা যাচ্ছে হাতে আঁকা রংধনুর ছবি। শিশুরা ওই রংধনুর ছবি এঁকে জানালার বাইরে টাঙিয়ে রেখেছে। কিন্তু কেন?
স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিশুরা যেমন পড়ালেখা করতে পারছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কারণে বন্ধুদের সঙ্গেও দেখা হচ্ছে না। ইন্টারনেটে ভিডিও চ্যাটে পরিচিত মুখ দেখা আর খেলার মাঠে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ফুটবলে পা রাখার আমেজটাই যে ভিণ্ণ তা শিশুরাও বোঝে। তাই তো মনোবিদদের মতে, লকডাউনের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা। আগামীর এই প্রজন্ম যাতে বিপদে না পড়ে সেই চেষ্টা করছেন অনেকে। আর এই চেষ্টার অংশ হিসেবেই রংধনু। অনেক সংস্কৃতিতেই রংধনুকে আশার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়। রংধনু ক্লান্ত দীর্ঘ অন্ধকারাচ্ছনড়ব সময়ের শেষে রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনের আগমনী বার্তা দেয়।
খ্রিস্টানরা মনে করে, রংধনু মানে শুভদিন সমাগত। তাই পশ্চিমা শিল্প সংস্কৃতিতে রংধনু খুব সাধারণ বিষয়। ইন্দোনেশিয়ার সমাজে রংধনুকে দেখা হয় আত্মাকে বহনকারী নৌকা হিসেবে। এই নৌকায় চড়ে স্বর্গের দিকে রওনা দেয় আত্মারা। আবার নরডিকদের মধ্যে রংধনু হলো অ্যাসগার্ড ও মিডগার্ডের মধ্যকার সংযোগ স্থাপনকারী সেতু। এই সেতু দিয়েই ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা যায়। জাপানেও রংধনুকে স্বর্গে যাওয়ার সেতু হিসেবে দেখা হয়। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা রংধনুকে দেখেছেন দেবতা ইন্দ্রের ধনুকের ছিলা হিসেবে। রংধনুকে ধনুক হিসেবে ব্যবহার করে তীর নিক্ষেপ করেন ইন্দ্র। আর ইসলাম-পূর্ব আরব সংস্কৃতিতেও রংধনুকে ধনুক হিসেবে দেখা হতো। রংধনু নিয়ে চীনাদের বিশ্বাস বেশ মজার। তাদের মতে, রংধনু হলো আকাশের ফাটল। পাঁচ রঙের পাথর দিয়ে আকাশের ফাটল বন্ধ করা হয়েছে। মায়া সংস্কৃতি মতে, মাতৃ দেবী চেলের মাথার মুকুট হলো রংধনু। আর আমেরিকানরা বিশ্বাস করত সূর্য দেবতার কোমরবন্ধনী হলো রংধনু।
লকডাউনের কারণে স্কুল, খেলার মাঠ ও জাদুঘরগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা। বিশে^র লকডাউনে থাকা শিশুরা রংধনুর ছবি এঁকে তাদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। তারা বলতে চাচ্ছে, বাস্তবতার কারণে তারা লুকিয়ে থাকলেও তারা আশাবাদী যে সুদিন আসছে।
