পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে গতকার রবিবার তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হয়েছে বৈসাবির মূল আনুষ্ঠানিকতা। এদিন চাকমা জনগোষ্ঠীর ‘ফুল বিজু’, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ‘হাঁড়িবসু’ আর মারমা সম্প্রদায়ে সূচিকাজ পালন করে। এদিন প্রায় সব পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠী পানিতে ফুল ভাসিয়ে দেয়।
উৎসবপ্রিয় পাহাড়িরা সারা বছর মেতে থাকেন নানান অনুষ্ঠানে। তবে তার সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় বর্ষ বিদায়ের এ উৎসব। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরা বৈসুক, মারমারা সংগ্রাই, তঞ্চঙ্গরা বিষু, অহমিয়ারা বিহু এভাবে তারা ভিনড়ব ভিনড়ব নামে আলাদাভাবে পালন করে এ উৎসব। উৎসবের প্রম দিনে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমারা বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে সেই ফুল দিয়ে ঘর সাজায়। পবিত্র এ ফুল ভাসিয়ে দেয় পানিতে, তাই একে বলা হয় ফুল বিজু।
ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে এদিন শুরু হয় বৈসাবি উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ফুল বিজুর দিন সকালে রাঙ্গামাটি শহরের রাজবনবিহারের পূর্বঘাটে ফুল বিজু উৎসবে কর্ণফুলী নদীতে ফুল ভাসায় চাকমা তরুণীরা। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈসাবির সব আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ রাখা হয়েছে। দল বেঁধে বা কোনো সংস্থা থেকে পানিতে ফুল ভাসানোর অনুষ্ঠান আয়োজন না করলেও পাহাড়িরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে উৎসব পালন করতে দেখা গেছে।
পানিতে ফুল ভাসিয়ে পুরনো বছরের দুঃখ বেদনাই যেন ভাসিয়ে দিয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনার আলো জ্বালায় পাহাড়ের মানুষ। পানিতে ফুল ভাসিয়ে পুরনো দিনের বেদনা ভুলে নতুন দিনের প্রত্যয়ের কথা জানায় ফুল ভাসাতে আসা পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা। পানিতে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে তারা গঙ্গা মাকে শ্রদ্ধা জানায়।
অন্যদিকে সাংগ্রাইয়ে একে-অন্যের গায়ে পানি ছিটিয়ে পুরনো বছরের সব দুঃখ, অবসাদ দূর করে নতুন বছরে শুদ্ধমননে জীবন শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করে পার্বত্যাঞ্চলের মারমা জনগোষ্ঠী। প্রতি বছরই বাংলাদেশ মারমা সংস্কৃতি সংস্থার (মাসস) আয়োজনে কেন্দ্রীয়ভাবে পানি খেলা বা ওয়াটার ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে পানি খেলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
এছাড়া বিভিনড়ব জনগোষ্ঠী বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা পালন করে আসছে। ফুল বিজুতে রাতের আকাশে ফানুস বাতির ঝলক দেখা যায়।
