করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) কারণে চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ায় তেল উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো।
তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং রাশিয়াসহ এর সহযোগী দেশসমূহ তেল উৎপাদন ১০ শতাংশ কমিয়ে আনতে একমত হয়েছে।
বিবিসি বাংলা জানায়, এ যাবৎকালে তেলের উৎপাদন কমানোর এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। আগামী ১ মে থেকে এটি কার্যকর হবে।
রবিবারে এক ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনার পর এ চুক্তি হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনায় ওপেক প্লাস অর্থাৎ ওপেক ও সহযোগী দেশসমূহ এই চুক্তির পরিকল্পনার কথা জানায়। কিন্তু ওই সময় মেক্সিকো এতে ভেটো দেয়।
নতুন চুক্তির ব্যাপারে ওপেক এখনো ঘোষণা দেয়নি, কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অনেকেই আলাদা আলাদা করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এখন কেবল এটুকু নিশ্চিত করা করা হয়েছে যে, ওপেক এবং এর সহযোগী দেশগুলো তেলের উৎপাদন দিনে ৯৭ লাখ ব্যারেল কমিয়ে দেবে।
এদিকে সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি এক ডলার করে বেড়েছে। হালকা অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি প্রায় ৩৩ মার্কিন ডলারে উঠেছে, আর সেই সঙ্গে মার্কিন বাজারে ব্যারেল প্রতি ২৪.১৫ ডলারে উঠেছে দাম।
করোনাভাইরাস মহামারি আকারে দেখা দেওয়ার ফলে সারা বিশ্বে ৩০০ কোটির বেশি মানুষ লকডাউনে থাকায় গত কয়েকমাসে জ্বালানি তেলের চাহিদা এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে।
এর আগে মার্চ মাসে তেলের দাম গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নামে।
এর মূল কারণ ছিল সৌদি আরব এবং রাশিয়ার মতভিন্নতার কারণে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো উৎপাদন কমানোর ব্যাপারে একমত হতে পারছিল না। কিন্তু ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে মতভিন্নতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশের এই চুক্তির বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল এবং নরওয়েও মে মাস থেকে তেলের উৎপাদন পাঁচ শতাংশ হ্রাস করবে।
