কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চাঁদা না দেয়ায় মহিন উদ্দিন নামের এক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার পর তার মৃত্যু হলে, সে করোনা আক্রান্ত ছিল বলে প্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার সরেজমিন গেলে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের কৈয়ারধারী গ্রামে নিহত মহিনের স্ত্রী রুবিনা বেগম ও মা মনকির বেগমসহ এলাকাবাসী সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
তারা বলেন, মহিন উদ্দিন ও আমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদার দ্বীন ইসলামের অধীনে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। বেশ কিছুদিন ধরে পার্শ্ববর্তী কাদঘর গ্রামের বশীর কন্ট্রাক্টরের ছেলে মো. জাহিদ তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
মহিনের সহকর্মী আমিনুল ইসলাম জানান, জাহিদ তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। আরও চাঁদার দাবিতে গত ৩১ মার্চ আমাদের দুজনকে আটক করে জাহিদ বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। এ সময় জাহিদ কিল-ঘুষি মেরে মহিন উদ্দিনের বুকে মারাত্মক জখম করে ও তার মোটরসাইকেলটি রেখে দেয়। কয়েক দিন পর টাকা পাবে দাবি করে মহিন উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী রুবিনা বেগমকে হুমকি দেয় জাহিদ।
হামলার ঘটনার পর মহিন উদ্দিন শরীরে ব্যথা নিয়ে জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হয়। একপর্যায়ে গত ৮ এপ্রিল ভোররাতে মহিন উদ্দিনের মৃত্যু হয়।
মহিন উদ্দিন মারা যাওয়ার পরপরই জাহিদকে বাঁচাতে একটি মহল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন মহিন উদ্দিনের নমুনা সংগ্রহ করে। এ সময় প্রশাসনের কড়াকড়ি ও আতঙ্কে মানুষ কাছে না যাওয়ায় কেউ প্রকৃত ঘটনা খুলে বলতে পারেনি। পরদিন বৃহস্পতিবার আইইডিসিআর থেকে মহিন উদ্দিনের করোনা রিপোর্টে নেগেটিভ ফল আসে।
মহিনের পরিবার আরও অভিযোগ করে, স্থানীয় মেম্বার মেম্বার আব্দুল মান্নানকে বিষয়টি জানালে তিনি প্রতিদিনই ঘটনার মীমাংসা করে দেবেন বলে জানালেও এর আগেই মহিন উদ্দিনের মৃত্যু হয়। এছাড়া, করোনা আক্রান্ত হয়ে মহিনের মৃত্যু হয়েছে সন্দেহে লকডাউন করার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউপি মেম্বারকে আমাদের ত্রাণ ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু মেম্বার তাদের খোঁজ নেয়নি।
এ ব্যাপারে শুভপুর ইউপি মেম্বার মো. আবদুল মান্নান বলেন, ৩১ মার্চ মহিন কাদঘরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। তার মোটরসাইকেলটি কোথায় কেউ জানে না। ইউএনওর নির্দেশের পরও মহিনের পরিবারকে কোন ত্রাণ দেয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, মহিন একজন মাদকসেবী ছিল।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
