করোনা ব্যবস্থাপনায় চীনা মডেল রপ্তানি

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০৩:৫৯ এএম

করোনাযুদ্ধে নিজেদের জয়ী ঘোষণা করেছে চীন। তাই গত মাসে ৬ চীনা ডাক্তার যখন এয়ার সার্বিয়া জেটে করে বেলগ্রেডের মাটিতে নামেন তখন তাদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিক। ব্যাপক অভিবাদনের এক পর্যায়ে ভুচিক সার্বিয়ার পতাকায় প্রথমে, পরে চীনের পতাকায় চুমু দেন। ইউরোপে চীনের নিকটতম মিত্র রাষ্ট্র সার্বিয়া। দেশটির অন্যান্য মিত্র থাকলেও চীনই তাদের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সব রকম সহায়তা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, করোনা-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক নেতৃত্বের অংশীদারিত্বে চীন যে ভাগ বসাতে চায়, তা এখন থেকেই বোঝা যাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কিছু দেশ চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, চীন করোনা মহামারী আগে প্রকাশ না করায় বিশ্বে বহু মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। চীন থেকে বিদেশিরা তাদের দেশে যাওয়ার ফলেই বিশ্বে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।

বৈশ্বিক রাজনীতিতে চীনের আধিপত্য ইতিমধ্যেই আছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের হাত ধরে চীন অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু করোনার কারণে চীনে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই অগ্রযাত্রা কিছুটা হলেও ব্যাহত হয়েছে। তারপরেও অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে মনে করেন সাবেক কানাডীয় কূটনীতিক গর্ডন হৌলডেন। গর্ডন বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টাস চায়না ইনস্টিটিউটের প্রধান। তার মতে, ‘মহামারী নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চীন এখন নিজেদের ব্যবস্থাপনা মডেল রপ্তানি করছে অন্য দেশে।’ এই ব্যবস্থাপনার আওতায় আছে আক্রমণাত্মক ও বিস্তৃত কর্মপদ্ধতি, যার মধ্যে লকডাউন ব্যবস্থাও আছে।

তবে এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করেনি। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিভিন্ন দেশে মেডিকেল টিম পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো, ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীনের অভিজ্ঞতাকে শেয়ার করা। দেশের বাইরে নিজস্ব প্রশাসনিক মডেল রপ্তানির কোনো ইচ্ছে তাদের নেই বলেও জানান তিনি।

সার্বিয়া ছাড়াও পেইচিং কম্বোডিয়া, ইরান, ইরাক, লাওস, পাকিস্তান, ভেনেজুয়েলা এবং ইতালিতে তাদের মেডিকেল টিম পাঠিয়েছে। জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইতালিই চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে যোগ দিয়েছে।

গত সপ্তাহে চীনের ১২ সদস্যের চিকিৎসক দল ফিলিপাইনে পৌঁছেছে। দেশটি ইতিমধ্যেই ৯০টির বেশি দেশে চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ করছে এবং দাতব্য হিসেবে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রকেও সহায়তা পাঠাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত