নীলফামারী জেলা লকডাউন

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ১০:০৬ পিএম

অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হলো নীলফামারী জেলাকে। জেলার চার উপজেলায় চারজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নীলফামারী জেলা লকডাউনের ঘোষণা মাইকযোগে প্রচার করে জেলা তথ্য বিভাগ।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলায় সকল ধরণের যানবাহন ও গণপরিবহন প্রবেশ-বহির্গমন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গণ বিজ্ঞপ্তি জারির হওয়ায় ১০ এপ্রিল সকাল থেকে সে সিদ্ধান্ত কার্যকরে মাঠে নামে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব। 

তবে ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিলনা লকডাউন শব্দটি। মঙ্গলবার ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে লকডাউনের ঘোষণাটি প্রচার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জেলার অভ্যন্তরে সকল ধরণের যানবাহন, দোকানপাট, সাপ্তাহিক হাট-বাজার, প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। 

তবে জরুরী পরিষেবায় নিয়োজিত যানবাহনের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না। ব্যাংকসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠিান বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান, কৃষিপণ্য ও যন্ত্রাংশের দোকান সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক খোলা থাকবে। 

প্রয়োজন ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক কাঁচাবাজার পণ্যসামগ্রী সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরেুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পাশাপাশি মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রালয় কতৃক জনস্বার্থে জারি করা নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় চার করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে  গত ৭ এপ্রিল জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক করোনা রোগি হিসেবে প্রথম শনাক্ত হন  জেলায়। তিনি ঢাকা ফেরৎ।

অপর দিকে ৯ এপ্রিল সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নে নারায়ণগঞ্জ ফেরত ২৮ বছর বসয়ী য্বুক, ১১ এপ্রিল জেলার ডিমলা উপজেলায় একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী  এবং সর্বশেষ ১৩ এপ্রিল জলঢাকা উপজেলায়  নারায়ণগঞ্জ ফেরত একজন কলেজ ছাত্রের করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়। 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে ৯ এপ্রিল আমরা  একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করি। ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে যে সকল নির্দেশনা দেওয়া ছিল সেটি মূলত লকডাউনের মধ্যেই পরে। তবে জনআতঙ্ক এড়ানোর জন্য সেদিনের গণবিজ্ঞপ্তিতে আমরা লকডাউন শব্দটি ব্যবহার করিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপট গুরুত্ব দিয়ে মঙ্গলবার লকডাউন শব্দটি ব্যবহার করে ওই আদেশ কার্যকরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলার জনগণকে নিরাপদে রাখার উদ্দেশ্যে ওই গণবিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের ঘরে থাকা নিশ্চিৎ করতে আমরা আরও কঠোর হয়ে কাজ করছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই লকডাউন অব্যাহত থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত