মজুরি দিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে না অনেক কারখানা

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০১:২৯ এএম

কোনো কোনো মালিক শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)।

গতকাল বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিআইএফই জানায়, প্রতি মাসের মজুরি পরের মাসের ৭ তারিখের মধ্যে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ আলোচনার মাধ্যমে মার্চের মজুরি পরিশোধের সময় ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেক মালিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি পরিশোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে শ্রমিকরা মজুরির দাবিতে মহাসড়ক ও কারখানার গেটে বিক্ষোভ করছেন। বিষয়টিকে অনাকাক্সিক্ষত বলছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠান।

ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যারা ১৬ এপ্রিলের মধ্যে মজুরি দিতে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মজুরি পরিশোধে ব্যর্থ কারখানার তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তাদের বিরুদ্ধে শ্রম আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করা হবে। এছাড়া এসব কারখানার লাইসেন্স নবায়ন আগামী অর্থবছর স্থগিত করা হবে।

তৈরি পোশাক শিল্পের বেশিরভাগ কারখানা মজুরি পরিশোধ না করায় শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল বাড্ডা, কমলাপুর, মিরপুরের বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। গাজীপুর ও চট্টগ্রামেও শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

বিজিএমইএর সদস্য সংখ্যা ৪ হাজার ৬২১। এর মধ্যে ২ হাজার ২৭৪টি সরাসরি রপ্তানি করে। কারখানাগুলোর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৬টি মার্চ মাসের মজুরি দিয়েছে। বিজিএমইএ বলছে, ঢাকা মহানগরীর ৩৭২টির মধ্যে ২০১টি, গাজীপুরের ৮১৮টির মধ্যে ৪৩২টি, সাভার-আশুলিয়ার ৪৯১টির মধ্যে ২৪৩টি, নারায়ণগঞ্জের ২৬৯টির মধ্যে ১১৮টি, চট্টগ্রামের ৩২৪টির মধ্যে ১৫৬টি এবং অন্যান্য এলাকার ৪২টির মধ্যে ৩৬টি মজুরি দিয়েছে। সরাসরি রপ্তানিকারক সদস্যদের তথ্য দিলে সাব-কন্ট্রাকটিং বা ঠিকায় কাজ করা সদস্য কারখানার বিষয়ে কিছুই জানায়নি বিজিএমইএ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত