করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সতর্কতা। কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। আর আক্রান্ত হয়ে গেলে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে পারলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরা একজন রোগী। সুস্থ হওয়া ব্যক্তি নাম প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। সুস্থ হওয়া রোগীর বয়স ৩৬। তিনি বলেন, প্রমে আমি ভয় পেয়েছিলাম। সুস্থ হতে শুরু করলে ভয় কমতে শুরু করে। এখন মনোবল অটুট।
করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা শাহীনা তাবাসসুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস অনেকটা ফ্লুর মতো। এতে আক্রান্ত হলে জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলাব্যথার উপসর্গ দেখা দেয়। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, সতর্ক হতে হবে। করোনায় আক্রান্ত রোগীর যদি হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, ক্যানসার কিংবা অন্য কোনো জটিল রোগ থাকে সেক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। এসব রোগীর ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষ করে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের সমস্যা একটু বেশি হয়।
যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান বিভাগ অফিস অব ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস হতে পাওয়া উপাত্ত থেকে সংবাদ করেছে বিবিসি। তারা বলেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের দেশে মারা যাওয়া প্রতি ১০ জনের অন্তত ৯ জনের মধ্যেই আগে থেকে কোনো না কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল। মারা যাওয়াদের মধ্যে অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা থাকার গড় ২.৭, অর্থাৎ গড়ে যারা মারা গেছেন তাদের প্রত্যেকের মধ্যে গড়ে দুটির বেশি জটিল রোগ ছিল।
সুস্থ হওয়া করোনা আক্রান্ত রোগী দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রমে তার জ্বর, কাশি ও গলাব্যথা দেখা দেয়। কয়েক দিন এভাবে চলতে থাকলে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করা হলে তারা নমুনা সংগ্রহ করে। এরপর যে রিপোর্ট দেয় তাতে করোনা পজিটিভ আসছে। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলা হয়। রোগী উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার পর তাকে মাস্ক ব্যবহার করতে হয়। চিকিৎসকদের দেওয়া ওষুধ খেতে হয়েছে। ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি মাউথওয়াশ দিয়ে গার্গেল করতে হবে। একটু পরপর আদা, লবঙ্গ, লেবু, গোলমরিচ দিয়ে চা খেতে হবে। নিয়মিত গরম পানির ভাপ নিতে হবে। হাসপাতাল থেকেই খাবার দেওয়া হয়েছে। বেশি শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন দেওয়া লাগে। তবে আমার তা লাগেনি। তবে রুমের বাইরে যাওয়া যায় না। ডাক্তাররা সকালে একবার এসে দেখে যান।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিকার হওয়ার পর প্রমে ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিকার হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চললে সুস্থ হওয়া যায়। মনোবল রাখতে হবে। সাহস রাখতে হবে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের আক্রমণের শিকার হলে পরিবার-পরিজন ছেড়ে একা থাকা খুবই কষ্টের। সময় যেন কাটে না। ছেলেমেয়ে-স্ত্রী ছেড়ে হাসপাতালের বেডে একাই থাকতে হয়। বেশি কথা বললে কষ্ট হয়। কাশি আসে। বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম প্রবাদ বাক্যের মতো বলতে হয়, করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এজন্য অন্যদের সঙ্গে কোলাকুলি ও করমর্দন করা যাবে না। গণপরিবহন যত সম্ভব পরিহার করতে হবে। টাকা-পয়সার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। লিফটে অনেক মানুষ একবারে ওঠা যাবে না। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একই কলম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জনসমাগম যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। অফিসের ডেস্ক, কম্পিউটার, কি-বোর্ড ও মাউস পরিষ্কার করতে হবে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গতকাল পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৭১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী। গতকাল
শেরপুরে প্রম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুই নারী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গত ৫ এপ্রিল তাদের দুজনের দেহে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়। পরে
তাদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়। ১২ দিন চিকিৎসা প্রদানের পর তারা সুস্থ হয়ে
ওঠেন। পরপর তিনবার নমুনা পরীক্ষার পর করোনা নেগেটিভ আসায় গতকাল তাদের সুস্থ বলে নিশ্চিত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
