যুক্তরাজ্যে কভিড-১৯ চিকিৎসায় বিশ্বের বৃহত্তম ওষুধ পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে দাবি করছেন দেশটির একদল গবেষক। ‘অভ‚তপূর্ব’ গতিতে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদও প্রকাশ করেন তারা। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নাকি এর পূর্ণাঙ্গ ফল পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে হয়, গবেষণা দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক পিটার হরবি। এর আগে তিনি পশ্চিম আফ্রিকা ও গণপ্রজাতান্ত্রিক কঙ্গোতে ইবোলার ওষুধ পরীক্ষায়ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গত এক মাসে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস হাসপাতালে পাঁচ সহস্রাধিক রোগীর ওপর এ পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষকরা বলছেন, যত বেশি রোগীর ওপর এ পরীক্ষা চালানো হবে, তত দ্রুত সময়ে এর ফল পাওয়া যাবে। যুক্তরাজ্যের পর আমেরিকা ও ইউরোপেও কয়েকশ রোগীর ওপর ওই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। প্রফেসর হরবি বলেন, ‘এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের বৃহত্তম পরীক্ষা। আনুমানিক জুন মাস নাগাদ এর পূর্ণাঙ্গ ফল হাতে পাওয়া যাবে। আমরা আশাবাদী যে এ পরীক্ষা থেকে ভালো কিছুই পাওয়া যাবে। তবে এটাও ঠিক, প্রক্রিয়াটি কোনো ম্যাজিক বুলেট নয়। যথাসময়েই এর ফল প্রকাশ করা হবে।’
গার্ডিয়ান জানায়, মোট দুটি ধাপে ব্রিটিশ গবেষকরা ওই ওষুধের পরীক্ষা চালাচ্ছেন। প্রথম ধাপে এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত দুটি অ্যান্টেরেট্রোভাইরাল ওষুধের মিশ্রণ ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি হলো লোপিনাভির-রিটোনাভির, যা কি না ক্যালেট্রা নামেই বেশি পরিচিত। আর অন্যটি হলো লো-ডোজ ডেক্সামেথাসোন, যা এক ধরনের স্টেরয়েড। এটি সাধারণত গুরুতর প্রদাহগুলো কমানোর ক্ষমতা রাখে। পরবর্তী ধাপে তারা টিসিলিজুমাব ওষুধ ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছেন। কারণ হিসেবে জানান, এটি এমন একটি ওষুধ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। সাধারণ বাতজ্বর ও সাইটিকাইন রোগের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত হয় ওই ওষুধ। তাই এটি কভিড-১৯ চিকিৎসায় টিসিলিজুমাব প্রয়োগে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
