নরসিংদী শহরের বীরপুর এলাকায় দোচালা টিনের ঘরে বাস তাদের। অধিকাংশের পেশাই ইজিবাইক, অটোরিকশা চালনা, গৃহকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে কষ্টে দিন কাটানো নিম্নআয়ের এসব মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন এক তরুণ। অভাবের দিনে এই সহযোগিতা তাদের বাঁচার অবলম্বন।
ওই তরুণের নাম আবদুল্লাহ আল মামুন রাসেল (৩০)। তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নরসিংদী শাখার কর্মকর্তা। দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর গত ২৮ মার্চ থেকে নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার গোলাম হোসেনের ছেলে রাসেলের এই উদ্যোগ চলছে। তার এমন উদ্যোগে হাসি ফুটেছে ৫০০ গরিব ও দুস্থ পরিবারে। প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া জরুরি ওষুধসহ খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি চাল, এক কেজি আলু, এক লিটার তেল, এক কেজি ডাল, এক কেজি পেঁয়াজ, একটি সাবান ও একটি মাস্ক।
গতকাল শনিবার সকালে বীরপুরে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল পরিবারের মধ্যে জরুরি ওষুধ বিতরণ করেন রাসেল। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অসহায় মানুষের জন্য তার মন সব সময় কাঁদে। এজন্য চাকরি হওয়ার পর থেকে অসহায় মানুষের জন্য বেতনের কিছু টাকা আলাদা করেই রাখেন। প্রয়োজনে বন্ধুদের সহযোগিতা নেন। ইতিমধ্যে নরসিংদী রেল স্টেশনের ছিন্নমূল শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি দূর করতে পাঠশালা চালু করেছেন। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে রাসেল বেতনের জমানো ৬০ হাজার টাকায় হতদরিদ্রদের খাদ্য সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। তার সঙ্গে যোগ হয় বড় ও ছোট দুই বোন, জামাতা ও বন্ধুদের আর্থিক সহযোগিতা।
গত ২৮ মার্চ রাসেল রিকশা ও ভ্যানচালকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেন। পরে তা হাজিপুর, দত্তপাড়া, বীরপুর, দাসপাড়া, পূর্ব ব্রাহ্মন্দী ও নামাপাড়া, ভরতেরকান্দীর অসহায় মানুষ ও পথশিশুদের মধ্যে বিস্তৃত হয়। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ও জনসমাগম এড়াতে রাসেল বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন।
অটোরিকশাচালক জাকির মিয়া বলেন, করোনার কারণে ৩ সপ্তাহ যাবৎ ঘর থেকে বের হতে পারি না। রাসেল ভাইয়ের ত্রাণ পেয়ে আগামী কয়েকটা দিন ছেলেমেয়ে নিয়ে চলতে পারব।
