করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা যে খুব জলদিই আবিষ্কার হবে এমন নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের বিশ্ব স্বাস্থ্যবিষয়ক অধ্যাপক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কভিড-১৯ বিষয়ক দূত ডেভিড নাবারো। করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করেই ভবিষ্যতে মানুষকে বাঁচতে হতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সে ক্ষেত্রে এ ভাইরাসের উপস্থিতিতেই আমাদের ভিন্নভাবে বাঁচার পথ বেছে নিতে হতে পারে বলে ধারণা তার। শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব আশঙ্কার কথা জানান তিনি।
গোটা বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত ওষুধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কার্যকরী ওষুধ/টিকা আবিষ্কারের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সেসব গবেষণার নিশ্চিত সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারছেন না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কভিড-১৯ বিষয়ক দূত ডেভিড নাবারো।
নাবারো বলেন, ‘আপনি যে নিশ্চিতভাবেই প্রত্যেক ভাইরাসের বিরুদ্ধে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা আবিষ্কার করতে পারবেন তা নয়। কিছু কিছু ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করাটা অনেক কঠিন কাজ। সুতরাং আমাদের সামনে যে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ, সেখানে এ ভাইরাসের অব্যাহত হুমকির মধ্যেই আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এর মানে হলো যাদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ থাকবে তারা এবং তাদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের আইসোলেশনে রাখতে হবে। বৃদ্ধ মানুষদের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এটাই হতে যাচ্ছে আমাদের সবার জন্য নতুন স্বাভাবিকতা।’
এর আগে গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) করোনার প্রতিষেধক নিয়ে হতাশার বাণী শুনিয়েছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরেক কর্মকর্তা মারিয়া ভান কেরখোভে। তিনি সতর্ক করেছিলেন, অ্যান্টিবডি পরীক্ষাগুলোতে এখন পর্যন্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে কোনো ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলেই তিনি করোনাভাইরাসে ফের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
