শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার সদরের পালং মডেল থানায় মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খনন কাজে বাঁধা দেওয়া, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবী ও প্রকল্পের ব্যবস্থাপককে মারধরের অভিযোগ এনে এক ঠিকাদার মামলাটি দায়ের করেন। আনোয়ার হোসেন শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য । ওই মামলায় তার আরও তিন ভাইসহ ১৪ জনকে আসামী করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের দাঁদপুর গ্রাম থেকে কাঠাখালি পর্যন্ত খালের তিন কিলোমিটার খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শহীদ এন্ড ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। খালের খনন কাজ শুরু করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধা দেওয়া শুরু করেন। তাদের সাথে যুক্ত হন আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। তিনি প্রকল্পের কাজ করতে বাঁধা দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবী করেন। গত ১০ এপ্রিল খাল খননের মাটি অপসারণ কাজে বাঁধা দেন। তখন তিনি প্রকল্পটির ব্যবস্থাপক মজিবর সরদার ও তার ভাই এমদাদ সরদারকে মারধর করেন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মতিউর রহমান বলেন, খালটি খনন কাজ শুরু করার পর থেকেই ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাইয়েরা চাঁদা দাবী করতে থাকেন। ওই খালের যা বরাদ্দ ছিল তাতে আমাদের লোকসান হবে। আমরা তাকে টাকা দিতে পারব না জানালে তিনি লোকজন নিয়ে আমার ম্যানেজারকে মারধর করে তার কাছে থাকা দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় কিছু প্রভাব দেখিয়েছেন। বাধ্য হয়ে থানায় মামলা দিতে হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, খালটি খননের কারনে স্থানীয় কৃষকদের অনেক ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল। তাই কৃষকরা বিভিন্ন সময় বাঁধা দিয়েছে। মাটি অপসারনের সময় তাদের ট্রাক আটকে দিয়েছে। আমিও কৃষকদের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু চাঁদা চাইনি, তাদের টাকা কেউ ছিনিয়েও নেয়নি। তবে ওই ঠিকাদারের পক্ষে স্থানীয় মাস্তান শ্রেণির কয়েক যুবক গ্রামবাসীর সাথে মারামারি করেছেন। আমাকে হয়রানি করার জন্য চাঁদাবাজি মামলা দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, পাউবোর খাল খনন প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের চাঁদা দাবীর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। এজাহার নামীয় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
