সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের ১০ টাকা কেজি দরের ৩৫৭ কেজি চালসহ ডিলার আলাউদ্দিনকে (৫০) পুলিশ রবিবার রাতে আটক করেছে।
তিনি কৈজুরি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে।
এ চাল চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এলাকাবাসী কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে শাহজাদপুর-কৈজুরি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।
পরে ইউএনও কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, কৈজুরি ইউনিয়নের ১০ টাকা কেজি দরের চালের ২ জন ডিলার রয়েছে। এর মধ্যে গোপালপুর গ্রামের মোকছেন আলীর ছেলে আলাউদ্দিন কৈজুরি বাজারের ডিলার। তিনি কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের নিকট আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ডিলারশিপ তার নামে হলেও মূলত সাইফুল ইসলামই এর সবকিছু নিয়ন্ত্রণকর্তা।
রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কৈজুরি বাজার থেকে কার্ডধারীদের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হয়।
এলাকাবাসী এদিন বিকেলে গোপন সংবাদেও মাধ্যমে জানতে পারে আলাউদ্দিন কার্ডধারী সবাইকে এ চাল না দিয়ে বেশি দরে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে তার পাশের আবু বক্কার মোল্লার বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছেন।
পরে গ্রামবাসী ৯৯৯ এ কল দিয়ে বিষয়টি জানালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ, সহকারী কমিশনার(ভূমি) মাসুদ হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই চালসহ ডিলার আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
এ দিকে শাহজাদপুর থানা পুলিশ, সহকারী কমিশনার(ভূমি) মাসুদ হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অবস্থায় এলাকাবাসী এ চাল চুরির সাথে কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জড়িত দাবি করে শাহজাদপুর-কৈজুরি সড়ক অবরোধ করে তার শাস্তির দাবি জানায়।
এ সময় শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
এ চাল চুরির ঘটনায় ডিলার আলাউদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে শাহজাদপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে পুলিশ ডিলার আলাউদ্দিনকে সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে প্রেরণ করে।
এ বিষয়ে কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়রম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, এ চাল চুরি বা কেলেঙ্কারির সাথে আমি কোনভাবেই জড়িত নই। আমরা বিরোধী পক্ষের লোকজন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, এই চাল চুরির সাথে যেই জড়িত থাকনা না কেনো তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ডিলার আলাউদ্দিনকে সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
