করোনা নিয়ে যেখানে ঘরে ঘরে আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে। সেখানে একশ্রেণির মানুষ মরণব্যাধি এই রোগকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। করোনা আক্রান্ত রোগীকে গোপন রাখার চেষ্টাও করেন কেউ কেউ। এমনই একটি চিত্র পাওয়া গেছে হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ উপজেলায় একটি পল্লীতে।
গত সোমবার রাতে সিলেট থেকে পাঠানো রিপোর্টে হবিগঞ্জ জেলার ১০ জন করোনা আক্রান্ত বলে জানানো হয়। ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই ছিলেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যরা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগী ও তার পরিবারকে আরও সচেতন করতে তাদের বাড়িতে যান।
আজমিরিগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও আলীপুর গ্রামের জালাল মিয়া (৫৫)। বর্তমানে তিনি একই উপজেলার বিরাট মির্জাপুর গ্রামে শ^শুরবাড়ির একটি ভিটায় বসবাস করেন। সিলেটের জাফলংয়ে পাথর কোয়ারিতে শ্রমিকের কাজ করেন। গত সোমবার আসা রিপোর্টে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে জালালের নামও আসে।
রাতেই আজমিরিগঞ্জ থানার ওসি মোশারফ হোসেন তরফদার, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীসহ কয়েকজন ছুটে যান তার বাড়িতে। জালাল মিয়া ও তার পরিবারকে বিষয়টি জানাতে গেলে বাড়ি থেকে বের হন স্ত্রী রেহেনা বেগম। তারা জালাল মিয়াকে ডেকে দিতে বললে রেহেনা বেগম জানান এই বাড়ি জালাল মিয়ার নয়। তিনি জালাল নামে কাউকে চেনেনও না। এমনকি স্বামীর নামও পাল্টে আরেক নাম বলেন তিনি। প্রায় আধঘণ্টা ধরে ওসি ও প্রকল্প কর্মকর্তাকে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েই যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে কর্মকর্তারা প্রতিবেশী এক বৃদ্ধার সহযোগিতা চাইলে তিনি জানান জালাল মিয়াই হচ্ছেন রেহেনার স্বামী। এ সময় ওসি তার পুলিশি মেজাজে ধমক দিলে বাড়ির লাগোয়া টয়লেট থেকে বের হয়ে আসেন জালাল মিয়া।
