নেত্রকোনার পূবর্ধলা উপজেলায় এই প্রথম দুই চিকিৎসকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে করোনা পজেটিভ আসার পরে তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
এ নিয়ে জেলায় গত ১১ দিনে মোট শনাক্ত হয়েছে ৩৩ জন। তাদের মধ্যে একজন স্টাফনার্সসহ চারজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী। এছাড়া বাকী ২৬ জন পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিক। এরা প্রত্যেকেই নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে নিজের এলাকায় ফিরেছেন। তবে পূর্বধলায় চিকিৎসকরা কিভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তার কারণ জানা যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মাহমুদা আক্তার জানান, আমরা তো নিজেরাও নমুনা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে যাচ্ছি। তাছাড়া হাসপাতালে বিভিন্ন রোগী আসছেন প্রতিদিন। আক্রান্ত চিকিৎসকদের একজনকে নিজ বাসায় এবং অপরজনকে কোয়ার্টারেই আইসোলেশন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ডাক্তার নার্সরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসলেও যারা সহযোগীতা করার কথা তারা কোন সহযোগিতা করছেন না। এমনকি গ্লাভস মাস্কসহ প্রটেকশন সরঞ্জামাদিও পর্যাপ্ত পাচ্ছি না। পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্স কক্ষের দায়িত্বে যিনি তিনি আসেননি। জানিয়েছেন, আসবেন না। আমরা বসে আছি। বুধবার বেলা ১২টা থেকে কনফারেন্স হওয়ার কথা। বুঝতে পারছিনা কি করবো। আমরাতো গত একমাস ধরে মাঠেই আছি।
হাসপাতাল লক ডাউন করা হবে কিনা , এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক রোগী আসে প্রতিদিন। লকডাউন হলে তারা চিকিৎসা নেবে কোথায়।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, সিভিল সার্জন বরাবরে সরঞ্জামদি দেওয়া হয়েছে। না পাওয়ার তো কথা নয়। তারপরও বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। এদিকে আক্রান্ত ডাক্তারদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে উনাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
উল্লেখ্য, করোনা শনাক্তদের মাঝে বারহাট্টা উপজেলায় ১১ জন, নেত্রকোনা সদরে ৪ জন, খালিয়াজুরীতে ৪ জন, কেন্দুয়ায় ২ জন, মোহনগঞ্জে ৪ জন, কলমাকান্দায় ৩ জন, আটপাড়ায় ২ জন, পূর্বধলায় ২ জন ও মদন উপজেলার ১ জন।
