করোনাভাইরাসের এ মহামারীতেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছেন না গাইবান্ধার কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে এবং বাজারে ও টিসিবির পণ্য নিতে গিয়ে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়াচ্ছেন। ফলে করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিদিনই। আর তাই এসব জনসমাগমস্থলে স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগানোর পরামর্শ সুশীল সমাজের।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মানুষের ভিড় কমাতে জেলার প্রধান কাঁচাবাজারের আড়ত, পুরাতন বাজার থেকে মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীদের নেওয়া হয়েছে স্বাধীনতা প্রাঙ্গণের মাঠে। জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া দেওয়া হচ্ছে কারাদ-। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে প্রচার অব্যাহত রেখেছে উপজেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপরও পুরাতন বাজারে কাউকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, জেলা শহরের পুরাতন বাজার, দারিয়াপুর, লক্ষ্মীপুর, বাদিয়াখালী ও তুলসীঘাট বাজারসহ জেলার সব উপজেলার বড় বড় বাজারে পণ্যের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় মানুষের ভিড় বাড়ে অনেক। আর তাই এসব স্থানে ভিড় কমাতে কিছু ব্যবসায়ীকে পার্শ্ববর্তী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ বা ফাঁকা জায়গায় স্থানান্তরিত করতে উপজেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাগিদ দিয়েছেন অনেকে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে দুজন শনাক্ত হন গত ২২ মার্চ। তাদের সংস্পর্শে আসা আরও তিনজন শনাক্তের পর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইল থেকে বাড়িতে আসা ব্যক্তিদের কারণে করোনায় শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে এখন ১৪-তে দাঁড়ালেও মানুষের মধ্যে তেমন কোনো সচেতনতা লক্ষ করা যায়নি। ব্যাংকে টাকা তুলতে, বাজারে ও টিসিবির পণ্য কিনতে গিয়ে মানুষ মানে না সামাজিক দূরত্ব। পাড়ার মোড়ে মোড়ে ও বিভিন্ন হাটবাজারে মানুষকে আড্ডা দিতে দেখা গেছে।
এদিকে গত ১০ এপ্রিল গাইবান্ধা লকডাউন ঘোষণার পর ঘরে ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পুলিশের সহযোগিতায় তাদের ও পরিবারের সদস্যদের নেওয়া হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে যারা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়ার আগে এসব মানুষ এলাকায় ঘোরাফেরা করেছেন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিশেছেন। ফলে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
নিরাপদ সড়ক চাই গাইবান্ধা জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি সালাহউদ্দিন কাশেম বলেন, অজ্ঞতা থেকেই হোক বা জেনেবুঝেই হোক, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছেন না মানুষ।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মানুষের ভিড় কমাতে বড় বাজারগুলো থেকে মাছের বাজার, সবজির বাজার আমরা অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছি। এ কাজটি চলমান। এছাড়া গ্রাম পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হবে।
