কর দিলেই মিলবে মাস্ক

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ০৫:২২ এএম

নাগরিকদের আয়কর দেওয়ায় উৎসাহী করতে জাপান সরকার আগে থেকেই বিভিন্ন উপহার দিয়ে আসছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের এই সময়ে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস মাস্ক এবার উপহার হিসেবে দিচ্ছে জাপানের একটি শহরের কর্র্তৃপক্ষ। বিশেষ কর প্রকল্পের অধীনে আয়কর দিলেও দেওয়া হচ্ছে একটি মাস্ক।

জাপানের আইসো শহরের কর্র্তৃপক্ষ এএফপিকে জানায়, বাসিন্দারা ন্যূনতম ৬৫ ডলার কর দিলেই তাদের উপহার হিসেবে স্থানীয়ভাবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য লিনেন ও তুলায় তৈরি মাস্ক দেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তা জুনকি বলেন, ‘আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। উপহার হিসেবে মাস্ক দেওয়া শুরু করার পর থেকেই অনেক মানুষ কর দিচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রায় ১০০ জন কর দিয়েছে। অথচ এর আগে ব্লুবেরি উপহার দিয়েও ২০ জনকে আকৃষ্ট করা যেত না। আমাদের স্থানীয় গোমাংস ও চাল এখনো অনেক জনপ্রিয়। কিন্তু আমার মনে হয় করোনাভাইরাসের কারণে মাস্কের বেশ চাহিদা রয়েছে।’

বিশেষ এই কর প্রকল্পের আওতায় মানুষ মিউনিসিপ্যালিটি অথবা নিজেদের পছন্দমতো জায়গায় অর্থদান করতে পারে। এই অর্থদানের ফলে তাদের বার্ষিক উপার্জন ও আবাসন কর কমে যাচ্ছে। এর বিপরীতে ওই অঞ্চলে গোমাংস অথবা ব্যয়বহুল ফলও উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।

২০০৮ সালে প্রথম এই বিশেষ কর প্রকল্প চালু করা হয়। সেই থেকে ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ইয়েন থেকে ৫১২ দশমিক ৭ রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত ডোনেশন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ বিষয় ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কর্র্তৃপক্ষ।

পশ্চিম কোচির মুরোতো শহরে তুলার তৈরি মাস্কের অনেক চাহিদা। প্রতিটি মাস্কের দাম সাড়ে ৯ হাজার ইয়েন। শহরের কর্মকর্তা সিনিয়া কাৎসুতা বলেন, ‘গত বছর থেকেই আমরা মূলত ডোনারদের মাস্ক দেওয়া শুরু করেছি। কিন্তু করোনাভাইরাসের সময়ে ডোনেশনের মাত্রা বেড়ে গেছে।’

জাপানে এমনিতেই ফ্লু ও পরাগায়নের মৌসুমে বাসিন্দারা মাস্ক পরেন। ওই সময় মাস্ক তৈরির উপকরণের তীব্র সংকট দেখা দেয়। করোনাভাইরাসের সময়ে এই সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের অনুরোধে ইলেকট্রিক পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান শার্প মাস্ক তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি করা মাস্ক তিন হাজার ইয়েন করে বিক্রি হচ্ছে। মাস্ক উপহারের পাশাপাশি জাপানের কিছু অঞ্চলে লকডাউনের মধ্যে বাড়িতে থাকা উৎসাহিত করতে চাল উপহার দেওয়া হচ্ছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত ও ২৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত