হবিগঞ্জে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সিলেট থেকে পাঠানো রিপোর্টে জেলায় আরও ২ নারীসহ ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২১ জনে। রোগীদের মধ্যে বাহুবলে ১ জন নারী, আজমিরিগঞ্জে ১ জন নারী ও মাধবপুর উপজেলায় স্বাস্থ কমপ্লেক্সের ১ জন ব্রাদার আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে একজন নারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর মাধবপুর বাজারের প্রায় ১০০ দোকানপাট সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রজমান উজ্জল জানান, করোনা রোগীদের বয়স ২০ থেকে ৩৩ এর মধ্যে। তাদেরকে হবিগঞ্জ হাসপাতালের আইসোলেশনে আনা হয়েছে। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের ৪টি জেলায় মোট ৪৯জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জ শীর্ষে রয়েছে।
জেলা সিভিল অফিস সূত্রে প্রকাশ, ২১ এপ্রিল লাখাই উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের ১ জন নার্স ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আজমিরিগঞ্জে বাড়িতে আসা একজন নারী গার্মেন্টস শ্রমিক করোনা আক্রান্ত ধরা পড়েন।
২০ এপ্রিল লাখাই হেলথ কমপ্লেক্সের একজন ডাক্তার ও একজন নার্সসহ মোট ১০ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হন।
গত ১০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মাইক্রোবাস চালক মোফাজ্জল হবিগঞ্জে প্রথম করোনা রোগী হিসেবে ধরা পড়েন।
এদিকে মাধবপুর উপজেলার শতাধিক দোকানপাট সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসনূভা নাশতারান বলেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতেই দোকানগুলো সিলগালা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাধবপুর উপজেলা সদরের লাগোয়া বিবাড়ীয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ গ্রামের এক নারী আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে বাড়ীতে আসেন। উপজেলা প্রশাসন তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখেন।
কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ার ২ দিন পর তার দেহে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ওই নারীর ছেলে মাধবপুর বাজারের নামে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন।
এ ছাড়া করোনা পজিটিভ ওই নারী ও তার পরিবারের সংস্পর্শে আসা লোকজন মাধবপুর বাজারের ব্যবসা পরিচালনা করছেন- এমন অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করেন।
