করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকিতে চলছে দেশে সরকারি ছুটি। মানুষকে ঘরে রাখতে সড়কে জরুরী সেবায় নিয়জিত যানবাহন ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন।
করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত ও মৃত্যু বরণ করায় দেশের অধিকাংশ জেলা অবোরুদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
এক জেলা থেকে অন্য জেলা এমনকি এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় প্রবেশ ও বাহির হতে পারছে না মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে হাওরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্ষেতে বোর ধান পাকলেও কৃষি শ্রমিকরে অভাবে সেই ধান ঘরে তুলতে পারছেনা কৃষকরা। সেই সংকট দূর করতে নীলফামারী থেকে হাওরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ধান কাটতে যাচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা।
নীলফামারী জেলা পুলিশের সার্বিক তত্বাবধায়নে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত বাস ও মাইক্রোবাস যোগে ৮৫০জন শ্রমিক বিভিন্ন জেলায় পাড়ি জমিয়েছেন।
গত বুধবার ২০ এপ্রিল থেকে এই শ্রমিক পাঠানো শুরু করে জেলা পুলিশ। এখন পর্যন্ত নীলফামারী থেকে সুনামগঞ্জ, গাজিপুর, শরিয়তপুর, কুমিল্লা, ঢাকা, ভোলা, টাঙ্গাইল, নাটোর এবং নওগাঁও জেলায় শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। এসব শ্রমিকদের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর পাঠানো হচ্ছে এসব অঞ্চলে।
শুক্রবার পর্যন্ত পাঠানো শ্রমিকদের মধ্যে জেলা সদরের কাঞ্চপাড়া গ্রামের গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন (৩৫) বলেন, “প্রতিবছর এ সময়ে আমরা জেলার বাহিরে ধান কাটতে যাই। কিন্তু এবার লকডাউনের কারণে যেতে পারছিলাম না। পুলিশের উদ্যোগে যেতে পারায় আমাদের আয়ের পথ খুললো। এতে সংসারের অভাব কিছুটা হলেও দূর হবে”।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “নাটোর, কুমিল্লা, সুনামগঞ্জসহ হাওড়াঞ্চলের জেলাগুলোতে বোরা ধান পাঁকা শুরু হয়েছে। ওইসব এলাকায় শ্রমিকের অভাবে তারা ধান কাটতে পারছেন না। এ অবস্থায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এ অঞ্চলের আগ্রহী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে আমাদের ব্যবস্থাপনায় ওইসব এলাকায় পাঠাচ্ছি। যেখানে পাঠাচ্ছি সেখানে তাদের কাজের নিশ্চয়তা নিয়ে পাঠাচ্ছি। তাদের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকবে”।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ, গাজীপুর, নওগা, নাটোর, ভোলাসহ হাওরাঞ্চলের পাঁকা বোরো ধান কাটার জন্য এ অঞ্চলের শ্রমিকদের পাঠানো হচ্ছে।”
