রমজানের চাঁদ দেখে মহানবী (সা.)-এর আনন্দ

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ১১:৩৫ পিএম

আল্লাহর দয়া-অনুগ্রহ, ক্ষমা ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে পবিত্র রমজান। রমজান মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের মাস। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাস। প্রার্থনা ও ক্ষমাপ্রাপ্তির মাস। তাই মুমিনমাত্রই রমজানের জন্য অপেক্ষা করেন। রমজানের কল্যাণ লাভের জন্য দোয়া করেন।

প্রিয়নবী মোহাম্মদ (সা.)ও রমজানের জন্য অপেক্ষা করতেন। এই সৌভাগ্যপ্রাপ্তির জন্য দোয়া করতেন। শাবান মাস শুরু হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের জন্য আরও ব্যাকুল হয়ে উঠতেন। তিনি শাবান মাসের দিন গণনা করতেন, চাঁদের হিসাব রাখতেন। রমজানের চাঁদের জন্য অপেক্ষা করতেন।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের চাঁদের যেভাবে হিসাব রাখতেন, অন্য কোনো মাসের হিসাব সেভাবে রাখতেন না। পরে চাঁদ দেখে রোজা রাখতেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

রাসুলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতকেও নির্দেশ দিয়েছেন, শাবান মাসের চাঁদের হিসাব রাখতে। যেন রমজানের রোজা নির্ভুলভাবে রাখা যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো।’ (সুনানে বায়হাকি)

এসব হাদিসের আলোকে ইসলামি স্কলাররা শাবান মাসের ২৯ তারিখ সামগ্রিকভাবে চাঁদ দেখাকে ফরজে কেফায়া বলেন। আর রাসুল (সা.)-এর ব্যক্তিগত আমলের কারণে প্রত্যেক মুমিনের জন্য আকাশে চাঁদের অনুসন্ধান করা মুস্তাহাব মনে করেন।

হাদিসে আছে, আকাশে রমজানের চাঁদ দেখে রাসুল (সা.) খুশি হতেন ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেন। রমজানের চাঁদকে অভিনন্দন জানাতেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি রমজানের চাঁদকে সুপথ ও কল্যাণের বার্তাবহ বলে সম্বোধন করতেন। রমজানের কল্যাণ ও বরকত লাভের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন।

তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) চাঁদ দেখে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ, হিলালু রুশদিন ওয়া খাইরিন।’

অর্থ : হে অল্লাহ! এ চাঁদকে ইমান ও নিরাপত্তা, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন। সুপথ ও কল্যাণের চাঁদ! আমার ও তোমার প্রভু আল্লাহ। (রিয়াজুস সালিহিন)

রাসুল (সা.)-এর সাহাবিরাও (রা.) রমজানের চাঁদ দেখে খুশি হতেন এবং দোয়া পড়তেন। হিশাম ইবনে হাসসান থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্র হাসান ইবনে আলী (রা.) চাঁদ দেখে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মাজআল্হু শাহরা বারাকাতিন ওয়া নুর, ওয়া আজরিন ওয়া মুয়াফাতিন, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা কাসিমুন বাইনা ইবাদিম্মিন ইবাদিকা, ফিহি খাইরান ফা-আকসিম লানা ফিহি খাইরাম্মা-তাকসিমু লিইবাদিকাস সালিহিন।’

অর্থ : হে আল্লাহ! এ মাসকে প্রাচুর্য ও জ্যোতির্ময় করুন, পুণ্য ও ক্ষমার মাধ্যম করুন। হে আল্লাহ! আপনি (এ মাসে) আপনার বান্দাদের মধ্যে কল্যাণ বিতরণ করবেন, সুতরাং আপনার পুণ্যবান বান্দাদের জন্য যা বণ্টন করবেন, তা আমাদেরও দান করুন।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)

হাদিসের গ্রন্থসমূহে এমন অসংখ্য দোয়া পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে সাহাবি ও আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দারা রমজানের চাঁদকে স্বাগত জানাতেন। সুতরাং করণীয় হলো, রমজানের চাঁদ অনুসন্ধান করা, চাঁদকে কল্যাণ ও বরকত লাভের দোয়ার মাধ্যমে স্বাগত জানানো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত