অবশেষে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই করোনার হটস্পট হয়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খুলে দেয়া হলো। মালিকপক্ষের দাবি, করোনা রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সব ধরনের নিয়ম কানুন মেনেই তারা কারখানা চালু করেছেন।
রবিবার সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্টস চালু করা হয়েছে। শনিবার সরকারের নির্দেশনা পেয়ে বিকেএমইএ ও বিজিএমএ সিদ্ধান্তের পর আজ সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তায় গার্মেন্টস অভিমুখে শ্রমিকদের পদচারণা দেখা যায়।
এদিকে শুধুমাত্র নিটিং, ডায়িং ও গার্মেন্টসের স্যাম্পল সেকশন শুরু চালু করার নির্দেশ থাকলেও তা মানেননি অনেক গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ।
ফতুল্লার বিসিকে ফকির নিটওয়্যার লিমিটেড ফ্যাক্টরি খোলা হয়েছে। খুলেছে মডেল গ্রুপের গার্মেন্টসও।
ফকির নিটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে স্বল্প পরিসরে গার্মেন্টস খেলার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অবস্থানরত শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়।
এর আগে সরকারের নির্দেশনা পেয়ে বিকেএমইএ ও বিজিএমএ সিদ্ধান্ত নেয় সীমিত পরিসরে গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট ডাইং কারখানা, নিটিং ফ্যাক্টরি চালু করার। সেই সঙ্গে গার্মেন্টসের স্যাম্পল সেকশনও।
মাসদাইর এলাকায় শারমিন আক্তার নামে এক শ্রমিক দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি কারখানার সুপারভাইজারের কল পেয়েছেন। তাকে গার্মেন্টসে যেতে বলা হয়েছে, তবে কেন তা তিনি জানেন না।
এ ব্যাপারে বিকেএমইএর ১ম সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দেশ রূপান্তরকে জানান, সরকারের নির্দেশক্রমে বিকেএমইএ ও বিজেএমই সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিটিং ও ডায়িং কারখানা চালু করার। সেই সঙ্গে গার্মেন্টসের স্যাম্পল সেকশন সীমিত আকারে শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর কাটিং এবং সুইং সেকশন চালু হবে ২ মে থেকে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের রাসেল গার্মেন্টসের এজিএম (এইচআর অ্যাডমিন) মো. জসীমউদ্দিন জানান, গার্মেন্টস চালু করা হলেও সামাজিক দূরত্ব মেনেই কাজ চলছে। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণ রোধে যা যা করণীয় তার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাত্র ২০ ভাগ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা দাবি করেন, এতে শ্রমিকদের জটলা হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই।
এদিকে গার্মেন্টস খোলার প্রথম দিনেই ফতুল্লায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে আমেনা গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। বেলা ১১ টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত মাসদাইর গাবতলী অংশে শ্রমিক ছাঁটাই না করার দাবিতে এই বিক্ষোভ করেন তারা।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে পুরাতন সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিক ও মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে দুপুর একটার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
করোনার এই ভয়াবহ সময়ে গার্মেন্টস খোলা নিয়ে শঙ্কার রয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। একটি গার্মেন্টস এর ছবি পোস্ট করে দেখানো হয়েছে শ্রমিক সমাগমের বিষয়টি, পাশাপাশি সব সেকশন চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মাঝে গার্মেন্টস চালু নিয়ে এক প্রকার আতঙ্ক কাজ করছে। তাদের মতে, আবার হুট করে অসংখ্য শ্রমিক জড়ো হলে করোনা সংক্রমণ রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
