করোনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আরও সুখবর রয়েছে। মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এবং স্বাস্থ্য ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন, তারা বিশেষ ভাতা পেতে যাচ্ছেন। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যেসব চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, তারা এই বিশেষ ভাতা পাবেন। সরকারি আর্থিক প্রণোদনার অংশ হিসেবে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিশেষ ভাতা হিসেবে অতিরিক্ত তিন মাসের মূল বেতন দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ সোমবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করবে অর্থ বিভাগ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্কেল অনুসারে তাদের ব্যাংক হিসাবে বিশেষ এই ভাতার টাকা যুক্ত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসনসহ যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, তারা করোনায় আক্রান্ত কিংবা মারা গেলে ইতিমধ্যে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এবার ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন মাসের মূল বেতন অতিরিক্ত দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আশা করছি সোমবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। কারা এ সুবিধা পাবেন তাদের তালিকা প্রস্তুতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কাজ করছে। এ তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ গ্রেডভেদে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং মারা গেলে ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে সরাসরি কর্মরত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ এ-সংক্রান্ত সরকারঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারী দায়িত্ব পালনকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিংবা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে এসব টাকা পাবেন।
জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৫-এর বেতনস্কেল অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে তিনি ক্ষতিপূরণ পাবেন ৫ লাখ টাকা, আর মারা গেলে পাবেন ২৫ লাখ টাকা। ১০ থেকে ১৪তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে পাবেন ৭ লাখ ৫০ হাজার, আর মারা গেলে পাবেন ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে পাবেন ১০ লাখ টাকা এবং মারা গেলে পাবেন ৫০ লাখ টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ যারা প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের সবার জন্য স্বাস্থ্যবীমার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বীমার ক্ষেত্রে সরকারকেই প্রিমিয়াম দিতে হবে। এ ছাড়া বীমার টাকা পেতে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে অনেক সময় লেগে যায়। তাই মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার।
